
শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় মাদ্রাসা থেকে টিফিনের সময় কৌশলে এক ১০ম শ্রেণির ছাত্রীকে (১৫) অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের গলদাপাড়া গ্রামে তারকাটা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা ইসলাম উদ্দিন বাদী হয়ে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে শ্রীপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্তরা হলেন একই গ্রামের নাজিম উদ্দিনের ছেলে সাব্বির হোসেন (সবুজ) (১৬), তার বাবা নাজিম উদ্দিন (৫৫) এবং দুই ভাই সুজন (২৫) ও সজিব (২৩)।
থানার লিখিত অভিযোগে জানা যায় ভুক্তভোগী কিশোরী গলদাপাড়া রিয়াজ উদ্দিন প্রধান দাখিল মাদ্রাসার ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী। অপহরণকারী সাব্বির হোসেন সবুজ একই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করার সুবাদে দীর্ঘদিন ধরে ওই ছাত্রীকে উত্ত্যক্তসহ কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। বিষয়টি পরিবারের পক্ষ থেকে সাব্বিরকে শাসন করার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হলেও সে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং অপহণের হুমকি প্রদান করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) প্রতিদিনের মতো ওই ছাত্রী মাদ্রাসায় যায়।
দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে টিফিনের সময় সে মাদ্রাসার বাইরে বের হলে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ওত পেতে থাকা সাব্বির হোসেন সবুজ একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশায় তাকে জোরপূর্বক উঠিয়ে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। ছাত্রীর বাবা ইসলাম উদ্দিন জানান, মেয়ে যথাসময়ে বাড়িতে না ফেরায় তারা মাদ্রাসা ও আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরবর্তীতে প্রত্যক্ষদর্শীদের মাধ্যমে জানতে পারেন যে, সাব্বির তার মেয়েকে অপহরণ করেছে। এই বিষয়ে সাব্বিরের বাড়িতে গিয়ে তার বাবা ও ভাইদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা প্রথমে মেয়েকে ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিলেও বর্তমানে নানা তালবাহানা করছেন। বুধবার বিকেলে ছেলের পরিবারে পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে আমার অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে (কোর্ট ম্যারেজ) করে বিয়ে পড়ানো হয়েছে। আমি আমার মেয়েকে দ্রুত সময়ের মধ্যে উদ্ধার চাই।
ভুক্তভোগির বাবা আরো বলেন, আমার নাবালিকা মেয়েকে কোথায় রাখা হয়েছে আমি জানি না। আমি আশঙ্কা করছি তারা আমার মেয়ের বড় ধরনের কোনো ক্ষতি করতে পারে। আমি প্রশাসনের কাছে আমার মেয়েকে দ্রুত সময়ে উদ্ধারের দাবি জানাই।
ওই এলাকার সিকান্দার আলী সরকার জানান,দুপুর দুইটার দিকে ছেলে মেয়েকে মাদ্রাসা থেকে নিয়ে উধাও হয়ে চলে গেছে। ছেলে সাব্বির হোসেন সবুজ একজন নেশাখোর,সে নেশায় আসক্ত, প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি সে মেয়েটিকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে। তার বাড়িতে গিয়ে আমরা মেয়েকে পাইনি। ছেলের বাবাকে বলা হয়েছিল মেয়েকে উদ্ধার করে নিয়ে এসে বিয়ে পরিয়ে দেওয়ার কিন্তু তাতে তারা রাজি হননি।
গলদাপাড়া রিয়াজ উদ্দিন প্রধান দাখিল মাদ্রাসার সুপার আমিনুল ইসলাম জানান,মাদ্রাসার ছাত্রী এবং ছাত্র উভয় দশম শ্রেণীর নিয়মিত শিক্ষার্থী। মঙ্গলবার টিফিনের পরে আমাদের মাদ্রাসা থেকে নিখোঁজ হয়। পরে তার আত্মীয়-স্বজনের সাথে যোগাযোগ করেছেলে এবং মেয়েকে না পেয়ে মাদ্রাসার পক্ষ থেকে শ্রীপুর থানায় একটি নিখোঁজ সাধারণ ডায়েরি করেছি।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাছির আহমদ জানান,মেয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি অপহরণের অভিযোগ পেয়ে এসআই (উপ-পরিদর্শক) হালিমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অপহরণের বিষয়টি তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে অপহরণের অভিযোগটি সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। ভিকটিমকে উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে।