
ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার ধুনটে ছাতিয়ানী রোকেয়া ওবেদুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের গণিত শিক্ষক আফরিনা রহমানের বিরুদ্ধে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে বেতন ভাতা উত্তোলেনের অভিযোগ উঠেছে। তিনি মাসে একদিন কর্মস্থলে এসে হাজিরা খাতায় পুরো মাসের সই করে ইএফটির (ইলেকট্রনিক ফান্ড টান্সফার) মাধ্যমে ব্যাংক থেকে বেতনের টাকা তুলছেন। প্রশাসনিক অনুমতি ছাড়াই দীর্ঘদিন কর্মস্থলে না থেকেও কীভাবে তিনি এই সুযোগ পাচ্ছেন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বগুড়া সদরের আতাউর রহমানের মেয়ে আফরিনা রহমান ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও সার্টিফিকেট প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান (এসটিআরসিএ) কর্তৃক সহকারী শিক্ষক (গণিত) পদে চুড়ান্ত নিয়োগের সুপারিশপ্রাস্ত হন। বিধিমোতাবেক আফরিনা রহমান ২০২৩ সালের ১ অক্টোবর ছাতিয়ানী রোকেয়া ওবেদুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। ওই বিদ্যালয়ে মাসে একদিন উপস্থিত হয়ে তিনি হাজিরা খাতায় পুরো মাসের সই করে ভেতন ভাতা উত্তোলন করেন।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, আমরা শুনেছি গণিত বিষয়ের একজন ম্যাডাম স্কুলে যোগদান করেছেন। কিন্ত তাকে স্কুলে কোন দিন দেখিনি এবং তার নামও জানা নেই। গণিত বিষয়টা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ন। কিন্ত দীর্ঘদিন শিক্ষক না থাকায় আমাদের গণিত বিষয়ে লেখাপড়া ব্যাহত হচ্ছে। অভিভাবকরা জানান, ওই শিক্ষিকার চাকরির প্রয়োজন না থাকলে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নেওয়া উচিৎ। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে সরকারি বেতন ভাতা তোলায় তার বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের কাছে আইনী ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি করছি।
এ বিষয়ে শিক্ষিকা আফরিনা রহমান বলেন, বিনাবেতনে আমাকে ছুটিতে রাখার জন্য বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে বলেছি। এছাড়া এ বিষয়টি নিয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সাথেও যোগাযোগ করা হচ্ছে। তবে যে কয়েক মাসের বেতন উত্তোলন করেছি সেই সব মাসের হাজিরা খাতায় আমার সই করা আছে বলে দাবি করেন তিনি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) শফিকুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ে যোগাদানের পর মাত্র ২দিন উপস্থিত ছিলেন। তবে প্রতিমাসেই বেতন উত্তোলন করেছেন। তাকে বার বার তাগিদ দিয়েও বিদ্যালয়ে উপস্থিত করতে পারিনি। ফলে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সাথে কথা বলে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে তার বেতন বন্ধের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্ত গণিত বিষয়ের শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।
ধুনট উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) প্রীতিলতা বর্মন বলেন, এ বিষয়টি খতিয়ে দেখে বিধিমোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।