
আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে এলাকার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। সোমবার সন্ধায় উপজেলার মেঘনাবেষ্টিত কালাপাহাড়িয়া ইউনিনের কালাপাহাড়িয়া এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের নারীসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। আহাতদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ একজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
খবর পেয়ে কালাপাহাড়িয়া তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই এলাকা ও তার আশপাশে উত্তেজনা বিরাজ করছে। আহতদের মধ্যে কুদ্দুস আলী (৫৬), মোছলেম মিয়া (৪০), সেলিম মিয়া (৫০), বেপারী মোল্লা (৬৫), আনোয়ার হোসেনে (৩৫), হাজেরা আক্তারসহ (৬০) বেশ কয়েকজনের নাম জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার কালাপাহাড়িয়া গ্রামে এলাকার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সালাউদ্দিন চৌধুরী সালামত ও ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনের সমর্থকদের বিরোধ চলছে। গত রোববার থেকে এ নিয়ে তাদের অনুসারীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করে।
সোমবার বিকেলে বিএনপির সভাপতি সালামত অনুসারীরা অস্ত্রসজ্জে সজ্জিত হয়ে ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনের সমর্থকদের উপর হামলা করলে শুরু হয় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষ অস্ত্রসজ্জে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের নারীসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়। এদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ বেপারী মোল্লাকে আশঙ্কাজনক অবস্থার কারণে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকিদের আড়াইহাজার ও সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
আড়াইহাজার উপজেলা হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ডা. সারথী রাণী রায় জানান, কালাপাহাড়িয়া থেকে আসা আহদের মধ্যে বেপারী মোল্লার আঘাতের ধরন দেখে মনে হয়েছে এটি বুলেটের আঘাত। তাই তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন জানান, ধানের শীষকে ভোট দিয়েছে এমন নিরীহ অনেক আওয়ামী লীগের সমর্থকদের কাছে চাঁদা দাবী করছে সালামত ও তার লোকজন। এ নিয়ে বেশ কয়েকদিন ধরে বিরোধ চলছে। এলাকার লোকজনকে চাঁদা দিবেনা বলায় সালামত ও তার লোকজন তার উপর ক্ষিপ্ত। সালামত ও তাদের লোকজন এরই জেরে আনোয়ার ও তার লোকজনের উপর হামলা করেছে বলে তিনি দাবী করেন।
এদিকে হামলা ও চাঁদা দাবীর বিষয়টি সম্পুর্ণ অস্বীকার করেছেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সালাউদ্দিন চৌধুরী সালামত। তিনি বলেন, আমি আড়াইহাজারে ছিলাম এ ব্যপারে কিছুই জানিনা। এলাকায় গিয়ে খবর নিয়ে জানতে পারবো আসলে কি হয়েছে।
আড়াইহাজার থানার ওসি মো. আলাউদ্দিন জানান, এলাকার প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন আনে। তবে যে কোন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ওই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এ ব্যপারে কোন পক্ষই এখন পর্যন্ত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।