
চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী পৌরসভার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সরকারপাড়া-খানবাড়ি-নতুন রেলওয়ে ষ্টেশন সড়কটি দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে সংস্কারের অভাবে সড়কের বিভিন্ন অংশে অসংখ্য ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে এবং কোথাও কোথাও পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে পুরো সড়ক চলাচলের অনুপযোগী ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
ফলে স্থানীয়দের পাশাপাশি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী-পথচারী ও যাত্রীরা অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। বছরের পর বছর এমন অবস্থা চললেও মিলছে না প্রতিকার। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বার বার সংস্কারের আশ্বাস দিলেও আলোর মুখ দেখা যাচ্ছে না। ফলে সড়কটি দিয়ে যাতায়াতে ঘটছে একের পর এক দুর্ঘটনা।
স্থানীয়রা জানান, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক থেকে সরকারপাড়া ও খানবাড়ি হয়ে নতুন রেলওয়ে ষ্টেশন পর্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দিয়ে নতুন রেলওয়ে ষ্টেশন, পূর্ব দোহাজারী ও জামিজুরী সহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত শত শত যানবাহন ও হাজারো মানুষ চলাচল করে। এছাড়া দোহাজারী পৌরসভা সদরে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে অতিরিক্ত যানজট বা কোন ধরনের সমস্যা হলে সরকার পাড়া-খানবাড়ী সড়কটি বিকল্প রাস্তা হিসেবে ব্যবহার হয়ে থাকে।
সড়কটির সরকার পাড়া হয়ে খানবাড়ি পর্যন্ত ছয়শ মিটার অংশের অবস্থা এতটাই খারাপ যে সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে থাকা গর্তগুলো পানিতে মরণফাঁদে পরিণত হয়। রাস্তার প্রকৃত গভীরতা বোঝা না যাওয়ায় প্রায়ই এখানে ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় সড়কের ক্ষয়ক্ষতি দিন দিন আরও বাড়ছে। জমে থাকা কাদাপানিতে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে সড়কটি দিয়ে চলাচলকারী স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা পড়ুয়া শিক্ষার্থী এবং পথচারীদের জামাকাপড়। দীর্ঘদিনেও সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় সড়কটির দুই পাশে বসবাসরত পরিবারের লোকজন জরুরী কাজকর্মে চলাচলে সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
সড়কটি দিয়ে নিয়মিত চলাচলকারী অটোরিকশা চালক কামাল হোসেন বলেন, এই রাস্তায় গাড়ি চালানো এখন সাজার মতো। সামান্য বৃষ্টি হলে সড়কে থাকা গর্তগুলো পানিতে পরিপূর্ণ হয়ে যায়। অনেক সময় গর্তে চাকা আটকে গেলে যাত্রী নামিয়ে গাড়ি ঠেলে পার করতে হয়।
সরকার পাড়ার বাসিন্দা হাজারী শপিং সেন্টার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুহিম বাদশা বলেন, সড়কটি সংস্কারের জন্য পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগে একাধিকবার আবেদন করে কেবল আশ্বাসই পেয়েছি, সংস্কারকাজ আলোর মুখ দেখেনি। পথচারী চলাচলে দুর্ভোগের পাশাপাশি এলাকার কেউ অসুস্থ হলে রোগী পরিবহনের ক্ষেত্রে এই সড়কটি এখন যন্ত্রণার অন্য নাম হয়ে উঠেছে। তাছাড়া বর্ষা মৌসুমে এই এলাকার শিক্ষার্থীরা রাস্তার বেহাল দশার কারনে বিদ্যালয়ে যেতে অনিহা প্রকাশ করে।
এবিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে দোহাজারী পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী ও ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাঈম উদ্দিন বলেন, “স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত বিভিন্ন প্রকল্পের তালিকায় গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি প্রাক্কলনসহ প্রেরণ করা হয়েছে। অনুমতি ছাড়পত্র পাওয়া সাপেক্ষে টেন্ডার আহ্বান করা হবে।”