Shakil Shah
২২ অগাস্ট ২০২১, ৭:৩৮ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

বালিয়াডাঙ্গীতে বাণিজ্যিকভাবে কেঁচো সার উৎপাদন

মো. দুলাল রব্বানী, বালিয়াডাঙ্গী (ঠাকুরগাঁও) :

 

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে ২ শতাধিক কৃষক কেঁচো সার উৎপাদন করছেন। শাকসবজি ও ফলমূল চাষে রাসায়নিক সারে স্থানীয় বাজার ও আশপাশের জেলাগুলোতে এ সারের প্রচুর চাহিদা থাকায় প্রান্তিক কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে কেঁচো সার উৎপাদনে। উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, কেঁচোর বিষ্ঠা বা মল উৎকৃষ্ট জৈব সার। এর বৈজ্ঞানিক নাম ভার্মি কম্পোস্ট। এটি এলাকার কৃষকের কাছে কেঁচো সার হিসেবে পরিচিত। বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় প্রথমবার ২০১৭ সালে ২০টি কংক্রিটের রিঙ বা চাকতির মধ্যে কেঁচো সার উৎপাদন শুরু করেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা তপন মাহামুদ।

তার কাছ থেকে দেখে উৎসাহ পেয়ে এ পর্যন্ত উপজেলায় ২০০ জন কৃষক বাণিজ্যিক ভাবে এ সার চাষ করছেন। এছাড়াও প্রান্তিক অনেক চাষিও অল্প করে শুরু করেছেন কেঁচো সার চাষ। ৩ বছর আগে দুওসুও ইউনিয়নের মহিষমারী গ্রামের হারুন উপজেলা কৃষি অফিস থেকে ১টি কংক্রিটের রিং ও ১ কেজি কেঁচো কিনে কেঁচো সার উৎপাদন শুরু করেন। বর্তমানে তিনি ৮০টি কংক্রিটের রিংয়ে কেঁচো সার উৎপাদন করছেন নিয়মিত। তিনি জানান, গত ৩ বছরে ৩০ টন কেঁচো সার বিক্রি করেছেন চার লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকায়। এক কেজি কেঁচো বেড়ে এখন ২০ কেজি কেঁচোতে পরিণত হয়েছে।

জানা গেছে, শাকসবজির ফেলে দেওয়া অংশ, অর্ধপচা গোবর, কলাগাছ ও কচুরিপানা একসঙ্গে মিশিয়ে সেখানে কেঁচো ছেড়ে দেওয়া হয়। কেঁচো এসব ময়লা খেয়ে মল ত্যাগ করে পচিয়ে ফেলে ও বংশ বৃদ্ধি করে। এই ময়লা জৈব সার হিসেবে প্রতি কেজি ১৫-২০ টাকা দরে বিক্রি করা হয়। আর প্রতি কেজি কেঁচো ৩ হাজার টাকা দামে বেচাকেনা হচ্ছে। কৃষি অফিসের প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় নিজ উদ্যোগে স্থানীয় প্রবীণ সাংবাদিক হারুন অর রশিদ এ বছর ১২০টি কংক্রিটের রিঙ স্থাপন করে কেঁচো সার উৎপাদন শুরু করেছেন। তিনি জানান, এক মাস পরেই এলাকায় শীতকালীন সবজি উৎপাদন শুরু হবে। সবজিতে কেঁচো সারের প্রচুর চাহিদা। ৩ টন সার স্টক রয়েছে। এক মাসের মধ্যে আরও ১ টন সার জমা হবে।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা তপন মাহামুদ জানান, কৃষকরা কেঁচো সার উৎপাদন করতে চাইলে আমরা প্রযুক্তিগত সহায়তার পাশাপাশি প্রশিক্ষণ প্রদানের ব্যবস্থা রয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি কৃষক নিজ উৎপাদিত সার ফসলে ব্যবহার করুক। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুবোধ চন্দ্র রায় জানান, বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনে কেঁচো সারের বিকল্প নেই। উপজেলাটিতে প্রচুর সবজি চাষ হয়। এই সার আলু, সবজি, আনারস ও মাল্টা চাষে খুবই উপকারী।

 

 

 

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

২০ এপ্রিলেই বাঁশখালী আইনজীবী সমিতির নির্বাচন, সংবাদ সম্মেলনে স্থগিত নোটিশ ভিত্তিহীন দাবি

৬ সংস্থা বিলুপ্ত করে গঠিত হচ্ছে ‘বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা’

গোপালগঞ্জেট হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন- ২০২৬ শুরু: শিশুদের সুরক্ষায় জোরালো উদ্যোগ

ধুনটে যুবদলের নবগঠিত কমিটির পরিচিতি সভা ও আনন্দ মিছিল

গোপালগঞ্জে জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

টাইটানিক থেকে বেঁচে ফেরা যাত্রীর লাইফ জ্যাকেট নিলামে বিক্রি

মির্জাপুরে ছিনতাইয়ের কবলে এক যুবকের মৃত্যু

সোমবার কারামুক্তিতে ই-বেইল বন্ড উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

খুলনায় হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন উপলক্ষ্যে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত

শ্রীপুরে শিশু শিক্ষার্থী কাভার্ডভ্যান চাপায় নিহত

১০

হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন উপলক্ষে পটুয়াখালীতে সংবাদ সম্মেলন

১১

বাগেরহাটে ভৈরব নদী দূষণ রক্ষায় ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত

১২

বাঞ্ছারামপুরে ৬ কেজি গাঁজা সহ দুই নারী মাদক কারবারি গ্রেফতার

১৩

কাহালুর দূর্গাপুর থেকে ২০টি গাঁজার উদ্ধার করলেন থানা পুলিশ

১৪

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অসম বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন

১৫

মাদারীপুরে একাধিক হত্যা মামলার আসামি চানমিয়া সিকদার গ্রেফতার

১৬

পটুয়াখালীতে দুই দিনব্যাপী ৪৭ তম বিজ্ঞান মেলার উদ্বোধন

১৭

ডোমারে চাঁদা দাবি ও হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

১৮

সিংড়ায় এক রাতেই পৃথক স্থানে ৭ টি ট্রান্সফরমার চুরি প্রায় ২শত বিঘা জমির ফসল নষ্টের শঙ্কা

১৯

অ্যাডভারটাইজিং এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (AAAB)-এর বার্ষিক সাধারণ সভা ২০২৬ অনুষ্ঠিত

২০