
উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের উলিপুরে চলতি মৌসুমে চাষিরা বোরো ধান কাটা মাড়াইয়ের কাজে ব্যাস্ত সময় পার করছেন। এদিকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে বোরো ধান কাটা মাড়াইয়ে অনেক সমস্যা হচ্ছে জানান কৃষকেরা। অনেকে ভেজা ধান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। রৌদ্র না থাকায় ধান শুকাতে পারছেন না।
অপরদিকে বাজারে ধানের দাম কম থাকায় কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে চাষিদের। তারা জানান, এভাবে বাজারদর থাকলে খরচের টাকাই উঠবেনা। এছাড়া বৈরী আবহাওয়া ও বেশিদামেও শ্রমিক সংকটে চিন্তিত তারা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরে উপজেলার একটি পৌরসভাসহ ১৩টি ইউনিয়নে হাইব্রিড ৮৩৯০ হেক্টর, উফসি ১৪০০০ হেক্টর ও স্থানীয় ১৪০ হেক্টর মোট ২২ হাজার ৫’শ ৩০ হেক্টর বোরো চাষের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে বোরো ধানের উৎপাদন লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৭’শ ৭৫ মেট্রিকটন। এছাড়া এবারে বীজতলা তৈরির লক্ষ্য মাত্রা ছিল ১৩’শ ৬ হেক্টর অর্জিত হয়েছে ১২’শ ৪৫ হেক্টর।
সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, মাঠে মাঠে চলছে বোরো ধান কাটা মাড়াইয়ের মহৎসব। বৈরী আবহাওয়ার কারণে বোরো ধান কাটা মাড়াইয়ে অনেক সমস্যা হচ্ছে জানান কৃষকেরা। অনেকে ভেজা ধান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। রৌদ্র না থাকায় ধান শুকাতে পারছেন না। অপরদিকে বাজারে ধানের দাম কম থাকায় কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে চাষিদের। তারা জানান, এভাবে বাজারদর থাকলে খরচের টাকাই উঠবেনা। এছাড়া বৈরী আবহাওয়া ও বেশিদামেও শ্রমিক সংকটে চিন্তিত তারা। একরময় একর জমিতে ধান পেঁকেছে। বৈরি আবহাওয়ায় ধান কাটাই করে ঘরে আনতে পারছেন না। এদিকে শিলা বৃষ্টির কারণে ধানের ক্ষতির সম্ভাবনায় চিন্তিত তারা। তার পরেও কৃষকেরা বসে না থেকে যে ভাবেই হোক ধান কেটে ঘরে নিতে ব্যাস্ত সময় পার করছেন।
উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের হারুনেফড়া খলিফার মোড় এলাকার কৃষক আশরাফ আলী জানান, প্রায় ৮ বিঘা জমিতে হাইব্রিড সহ বিভিন্ন জাতের বোরো ধানের চারা রোপণ করেছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, সার সংকটে চরা দামে সার ক্রয় করে ধান চাষাবাদ করতে খরচ দ্বিগুণ হয়েছে। অল্প কিছু ধান কেটে ঘরে নিলেও বেশির ভাগ ধান জমিতে পড়ে আছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে ধান ঘরে আনা সম্ভব হচ্ছে না। এদিকে ধানের বাজার অনেক কম হওয়ায় এবারে খরচের টাকাই উঠবেনা বলে জানান তিনি।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষক ফুল মিয়া, আমজাদ আলী, সুশান্ত কুমার, আব্দুল হামিদ ও জাহাঙ্গীর আলম সহ আরও অনেকে বলেন, এই ফসল দিয়েই পরিবারের খাবারসহ যাবতীয় খরচের যোগান দিতে হয়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে হাল-চাষ, বীজ, সার, শ্রমিকের দাম অনেক বেশি। ধানের বাজার অনেক কম থাকায় খরচের টাকাই উঠবেনা। একদিকে বৈরি আবহাওয়া অপরদিকে ধানের দাম কম থাকায় আমাদের মত কৃষকদের বাঁচার উপায় নেই।
এদিকে কুড়িগ্রাম রাজারহাট আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র জানান, জেলায় গত ২৪ ঘন্টায় ৬১.৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এরকম অবস্থা আগামী ৫ মার্চ পর্যন্ত থাকবে বলে জানান এ কর্মকর্তা। এছাড়া আগামী ৫ মার্চের পর গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি কমতে শুরু করবে এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে থাকবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষিবিদ মোশারফ হোসেন বলেন, উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের লাইন-লোগো পদ্ধতি ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়ায় বোরো ধানের ফলন অনেক ভালো হয়েছে। এছাড়া বৈরি আবহাওয়া থাকায় জমিতে থাকা পাকা ধান কেটে ঘরে উঠানোর পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। ধানের বাজার ভালো থাকলে বোরো চাষিরা অনেক লাভবান হবেন বলে জানান তিনি।