
দেবিদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : রাজধানী ঢাকায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) মারা যান পুলিশের কনস্টেবল জসিম উদ্দিন। শহীদ কনস্টেবল জসিম (৩৯) কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়নের কাঠালিয়া গ্রামের মৃত আবদুল হকের ছেলে।শহীদ জসিম ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমিপ) ওয়ারী বিভাগের ওয়ারী থানায় কর্মরত ছিলো। তার দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে।
(২৯ এপ্রিল ২০২০) বুধবার বিকেলে নিজ গ্রামে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে বাবার কবরের পাশে সমাহিত করা হয় জসিমকে। শহীদ জসিমের জানাজার নামাজে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ নূরুল ইসলাম, বুড়িচং থানা অফিসার ইনচার্জ মোজাম্মেল হক, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মীর হোসেন মিঠু, পরিদর্শক (তদন্ত) মাসুদ আলম, দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ীর ইনচার্জ ইন্সপেক্টর সাজ্জাদ হোসেন, এস আই সুজয় ও পরিবারের লোকজন।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, আমরা অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি, করোনা মোকাবেলায় মাঠ পর্যায়ের প্রধান সম্মুখ যোদ্ধা পুলিশের এক গর্বিত সদস্য কনস্টেবল মো. জসিম উদ্দিন (৪০) করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন।
চলমান করোনাযুদ্ধে দেশের সম্মানিত জনগণকে সুরক্ষিত রাখতে গিয়ে মো. জসিম উদ্দিনের মৃত্যুতে বাংলাদেশ পুলিশ গভীরভাবে শোকাহত। একই সাথে দেশমাতৃকার সেবায় তার এমন আত্মত্যাগে বাংলাদেশ পুলিশ গর্বিত। তাকে হারানোর শোককে শক্তিতে পরিণত করে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ পুলিশ।
পুলিশ সদরদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (গণমাধ্যম) মো. সোহেল রানা জানান, জসিম উদ্দিন ঢাকা মহানগর পুলিশের ওয়ারী বিভাগের একটি পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত ছিলেন। করোনাকালে দায়িত্ব পালনকালে হঠাৎ করে জ্বরে আক্রান্ত হলে গত ২৫ এপ্রিল তার নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআর-এ করোনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। এরপর থেকেই তিনি কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন।
কিন্তু গতকাল মঙ্গলবার রাতে কোয়ারেন্টাইনে থাকা অবস্থায় হঠাৎ করেই বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানকার দায়িত্বরত চিকিৎসক রাত ১০টায় জসিম উদ্দিনকে মৃ’ত ঘোষণা করেন। আজ সকালে আইইডিসিআর থেকে জানানো হয়, জসিম উদ্দিন করোনা পজেটিভ ছিলেন অর্থাৎ তিনি কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়েছিলেন।