
শাহ সারওয়ার, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জ জেলা-এর ১৩টি উপজেলায় টানা অতিবৃষ্টির কারণে প্রায় ৭ হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান আকস্মিকভাবে পানিতে তলিয়ে গেছে। নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় এই বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে হাওর ও বিল অধ্যুষিত নিম্নাঞ্চলগুলোতে। হোসেনপুর উপজেলা-এর সিদলা ইউনিয়নের হারেন্জা বিল, শুকুনী বিল ও পাইফুটা; কুলিয়ারচর উপজেলা-এর পাচাটিয়া বিল ও ছাওয়ার বিল; পাকুন্দিয়া উপজেলা-এর নবারিয়া বিলসহ বিভিন্ন এলাকার ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
এছাড়া মিঠামইন উপজেলা-এর গাংচর, বিঘারচর, রোয়াবিল, চমকপুর বড় হাওর, শরীফপুর হাওরসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অষ্টগ্রাম উপজেলা, ইটনা উপজেলা ও বাজিতপুর উপজেলা-এর বিভিন্ন হাওরেও একই চিত্র দেখা গেছে।
পাশাপাশি কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা, নিকলী উপজেলা, করিমগঞ্জ উপজেলা, তাড়াইল উপজেলা, ভৈরব উপজেলা ও কটিয়াদী উপজেলা-এর বিল ও হাওরের নীচু এলাকাগুলোতে দণ্ডায়মান বোরো ধান ব্যাপকভাবে নিমজ্জিত হয়েছে।
জেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপপরিচালক ডা. মো. সাদেকুর রহমান বলেন, “ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ক্ষতির পরিমাণ ব্যাপক।”
তবে এখন পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরাসরি ভর্তুকি বা পুনর্বাসনের কোনো সরকারি উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি বলে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগাম বৃষ্টি ও অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে প্রতিবছরই হাওরাঞ্চলে এমন ক্ষতি বাড়ছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশন, টেকসই বাঁধ নির্মাণ এবং আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা জোরদার না করলে ভবিষ্যতে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।