Shakil Shah
১৬ জানুয়ারী ২০২১, ৫:৩৬ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

বিলুপ্তির পথে গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি

শামীম খান,মহেশপুর(ঝিনাইদহ)প্রতিনিধিঃ

ও বৌ ধান ভানেরে/ঢেঁকিতে পার দিয়া/ ঢেঁকি নাচে বউ নাচে/ হেলিয়া, দুলিয়া/ ও বৌ ধান ভানেরে পল্লী কবি জসীম উদ্দিনের ঢেঁকি নিয়ে এই কবিতা এখনো থাকলেও নানান স্মৃতির এই ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। গ্রাম-বাংলার ঘরে ঘরে এক সময় ঢেঁকিতে ধান ভানা, চিঁড়া কুটা আর চালের গুঁড়া কুটার দৃশ্য সবসময়ই চোখে পড়তো।

কিন্তু কালের বিবর্তন আর আধুনিকতার ছোয়ায় গ্রাম বাংলা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে একসময়ের খাদ্যদ্রবাদি মাড়াইয়ের অন্যতম মাধ্যম ঢেঁকি। বর্তমানে মানুষের প্রযুক্তি নির্ভরতা এবং কর্মব্যস্ততা বেড়ে যাওয়ায় ঢেঁকির ব্যবহার এখন নেই বললেও চলে।
আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে হারিয়ে যেতে বসেছে এক সময়কার গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য। পাল্টে গেছে গ্রামের চিত্র।

এই আধুনিক যন্ত্রপাতি আর প্রযুক্তির আড়ালে চাপা পড়ে গেছে গ্রামের সেই ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি। এখন ঢেঁকির আর দেখাই মেলে না। ‘ধান ভানি রে, ঢেঁকিতে পার দিয়া। ঢেঁকি নাচে আমি নাচি, হেলিয়া-দুলিয়া। ধান ভানি রে।’ গ্রাম-বাংলার তরুণী-নববধূ, কৃষানিদের কণ্ঠে এ রকম গান এখন আর শোনা যায় না। বিভিন্ন ধরনের যন্ত্র আবিষ্কারের সঙ্গে সঙ্গে সেসব পুরনো ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে। কালের বিবর্তনে ঢেঁকি এখন শুধু ঐতিহ্যের স্মৃতি বহন করে। দিন দিন ঢেঁকি শিল্প বিলুপ্ত হলেও একে সংরক্ষণের কোনো উদ্যোগ নেই।

একসময় ভোরে আজানের সাথে সাথে স্তব্ধতা ভেঙে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ত ঢেঁকির শব্দ। পরিবারের নারীরা সে সময় দৈনন্দিন ধান, গম ও যব ভাঙার কাজ ঢেঁকিতেই করতেন। পাশাপাশি চিড়া তৈরির মতো কঠিন কাজও ঢেঁকিতেই করা হতো। বিশেষ করে শবে বরাত, ঈদ, পূজা, নবান্ন উৎসব, পৌষ পার্বণসহ বিশেষ বিশেষ দিনে পিঠা-পুলি খাওয়ার জন্য অধিকাংশ বাড়িতেই ঢেঁকিতে চালের আটা তৈরি করা হতো।

সে সময় গ্রামের বধূদের ধান ভানার গান আর ঢেঁকির ছন্দময় শব্দে চারদিকে হৈচৈ পড়ে যেত। তাছাড়া ওই সময় এলাকার বড় কৃষকরা আশপাশের দরিদ্র নারীদের টাকা বা ধান দিয়ে ঢেঁকিতে চাল ও আটা ভাঙিয়ে নিতেন। অনেক দরিদ্র পরিবার আবার ঢেঁকিতে চাল ভাঙিয়ে হাট-বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করত। ঢেঁকিতে ভাঙা পুষ্টিকর এবং সুস্বাদু চালের বেশ কদর ছিল।

ধান-গম ভাঙা যন্ত্র আবিষ্কারের কারণে এক সময়ের নিত্য প্রয়োজনীয় ঢেঁকি আজ বিলুপ্ত প্রায়। সভ্যতার প্রয়োজনে ঢেঁকির আবির্ভাব ঘটেছিল। আবার গতিময় সভ্যতার যাত্রাপথে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষেই বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।

মহেশপুর পৌর এলাকার পাতিবিলা গ্রামের মনোয়ারা বেগম বলেন, বিয়ের পর থেকেই ঢেঁকি দিয়ে বিভিন্ন খাদ্যদ্রবাদি মাড়াই করেছি। আগে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন ঢেঁকিতে চালের আটা তৈরি করতে আসত। কিন্তু এখন আর তেমন কেউ আসে না। এখন সবাই মেশিনে চাল মাড়াই করে।

সুফিয়া খাতুন বলেন,এক সময় গ্রামাঞ্চলে প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই ছিল এই ঢেঁকি। তখন কদরও ছিল। এখন প্রতিটি বাড়িতে তো দূরের কথা, কয়েকটি গ্রাম মিলিয়ে একটি বাড়িতেও ঢেঁকি পাওয়া অসম্ভব।

শহিদুল ইসলাম বলেন,হাতের কাছে বিভিন্ন যন্ত্র আর প্রযুক্তি সহজলভ্য হওয়ায় ঢেঁকির মতো ঐতিহ্যবাহী অনেক কিছুই এখন হারিয়ে যাচ্ছে। এক সময় হয়তো সেসবের দেখা মিলবে কেবল জাদুঘরে।

 

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উলিপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন করেন এমপি মাহবুবুল আলম সালেহী

বাগেরহাটে মে দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

বাগেরহাটে পৃথক অভিযানে ৬ হাজার ৮৫০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক

উলিপুরে বৈরী আবহাওয়ায় বোরো কাটা-মাড়াই শুরু

ধুনটে ১মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস পালিত

দীর্ঘপথ পায়ে হেঁটে দুর্গম এলাকায় এসি-ল্যান্ড’র সাঁড়াশি অভিযান

ঈদুল আজহায় বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা যাবে না: মালিক সমিতি

অবশেষে পুরোদমে চালু হচ্ছে ভারতের ভিসা

নবদিগন্তের সূচনা, নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

থানায় দালালমুক্ত সেবা নিশ্চিতের নির্দেশ দিলেন সালাহউদ্দিন আহমদ

১০

বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেড-এ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ

১১

স্পীকারের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন সমাপ্ত

১২

পল্লবীতে বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্রসহ ‘শুটার রনি’ গ্রেফতার, বিপুল গুলি উদ্ধার

১৩

মিরসরাইয়ে পাহাড় কেটে নাহার গ্রুপের স্থাপনা নির্মাণ ৪ দিনের জন্য কাজ বন্ধ করলো উপজেলা প্রশাসন

১৪

দেবিদ্বারে অবৈধ দুই ইটভাটা গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন

১৫

বাগেরহাটের নতুন পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের

১৬

গোবিপ্রবি ও ঢাবির উচ্চতর বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রের মধ্যে গবেষণা সহায়তা চুক্তি

১৭

গোবিপ্রবিতে গবেষণা চুরি ঠেকাতে ১৪ লাখ ব্যয়ে টার্নিটিন সফটওয়ার ব্যবহার শুরু

১৮

গোপালগঞ্জে পদোন্নতি প্রাপ্ত পুলিশ অফিসারকে র‌্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দিলেন পুলিশ সুপার মোঃ হাবিবুল্লাহ

১৯

দীর্ঘ ১০৪ বছর পর কলাপাড়ায় যুগ্ম জেলা জজ ও যুগ্ন জেলা দায়রা জজ আদলতের কার্যক্রমের উদ্বোধন

২০