Shakil Shah
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৩:৫৪ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

ভাঙন থামছে না তিস্তা পাড়ে

আব্দুল বারী বাবু, গঙ্গাচড়া (রংপুর):

 

তীব্র ভাঙন ও বন্যায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার তিস্তাপাড়ের মানুষ। গত সাত দিনে তিস্তার পেটে বিলীন হয়েছে একটি গ্রামের শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি, ঈদগাহ ও ফসলি জমি। হুমকির মুখে রয়েছে বিদ্যালয়সহ আরো নানান স্থাপনা।

জানা যায়, এবছর জুন থেকে দফায় দফায় বন্যার কবলে পড়ে তিস্তা তীরবর্তী ল²ীটারী, কোলকোন্দ, নোহালী, গজঘন্টা, আলমবিদিতর, মর্নেয়া ও গঙ্গাচড়া ইউনিয়ন। আগস্টের শেষ থেকে তিস্তার পানি প্রবাহ ওঠানামা করছে। যার কারণে তিস্তার ভাঙনে প্রতিনিয়ত বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, ঈদগাহ, মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দির, রাস্তাঘাট, কালভার্ট, সরকারি স্থাপনা ও ফসলি জমি। মাঝে মধ্যে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করলে ঘরবাড়ি সরানোর মতো সুযোগও পাচ্ছে না কেউ কেউ।
উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ভাঙন ও বন্যা দেখা দিলেও কয়েকদিন ধরে তীব্র ভাঙনের মুখে পড়ে  পূর্ব ইচলি গ্রাম। গত পাঁচ দিনে গ্রামটির শতাধিক বসতভিটা ও ঐতিহ্যবাহী পূর্ব ইচলি ঈদগাঁ মাঠ বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের মুখে পড়েছে মোনাজত উদ্দিন আনন্দ স্কুল, হরি মন্দির, জয়রামওঝা ঈদগাহ, জয়রামওঝা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শেখ হাসিনা দ্বিতীয় তিস্তা সেতুর সংযোগ সড়ক। ভাঙন অব্যাহত থাকলে দুই একদিনের মধ্যে শংকরদহের মতো পূর্ব ইচলি বিলীন হওয়ার শঙ্কায় রয়েছে এলাকাবাসী। ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পূর্ব ইচলি গ্রামের রহমান, জাহের আলী, হজরত, মনোয়ারুল বলেন, চোখের সামনেই সবকিছু ভেসে গেল। ঘরের টিন খুলে সরানো সম্ভব হলেও অনেক আসবাবপত্র তিস্তায় ভেসে গেছে। জমি নেই বাড়ি করার। কোথায় যাবো আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না।

একই এলাকার সামসুদ্দিন, মিঠু, দুলু বলেন, হামরা নদীতে ভাসি যাচ্ছি। মেম্বর, চেয়ারম্যান যতটুকু পারতেছে দেখশুন করতেছে। বাকি অন্য কারও দেখা নাই। সরেজমিনে দেখা যায়, বসত ভিটায় পানি উঠায় খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছে তালেব, ছামাদ, আজিজুল, আশরাফের মতো শত শত পরিবার।

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জরুরী বরাদ্দ থেকে জিও ব্যাগ ফেলা হলেও তা অসময়ে করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে নদীপাড়ের মানুষদের। এ প্রসঙ্গে রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী তবিবুর রহমান বলেন, তিস্তা কখন কোথায় ভাঙবে তা আগে থেকে বলা সম্ভব নয়। যেখানে ভাঙন দেখা দিচ্ছে সেখানেই জরুরী ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।  প্রতিনিয়তই নদীর পাড় ভাঙছে, দীর্ঘ হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা। তিস্তার তলদেশ ভরাট হওয়ায় সামান্যতেই বন্যা আর ভাঙনের মুখে পড়ে তিস্তাপাড়ের মানুষ। তাই নদী খনন করে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছে নদীপাড়ের মানুষজন।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পটুয়াখালী জেলা বার নির্বাচনে বিএনপি প্যানেল বিজয়ী

পটুয়াখালীতে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’র জমকালো উদ্বোধন

পটুয়াখালীতে নারী পুলিশ সদস্যদের মরদেহ উদ্ধার

জলাবদ্ধতা ও পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হওয়ায় বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলে দণ্ডায়মান ফসল নিমজ্জিত

ডাক বিভাগ কে যুগোপযোগী করতে কাজ করছে সরকার: ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী

রাজবাড়ীতে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের আলোচনা সভা

শরীয়তপুরে এসএসসি কেন্দ্রে পুরোনো সিলেবাসের প্রশ্নে পরীক্ষা, দায়িত্ব হারালেন দুই কর্মকর্তা

গোপালগঞ্জে পুলিশ – ম্যাজিস্ট্রেসী কনফারেন্স অনুষ্ঠিত

রাজবাড়ীতে স্মৃতিচারণের মধ্য দিয়ে আশু ভরদ্বাজকে স্মরণ

ধুনটে প্রতিপক্ষের হামলায় গ্রাম পুলিশ সহ ৩ জন আহত

১০

অডিও রেকর্ডে মিথ্যাচার: ভাই হত্যার ন্যায়বিচার চাইলেন পরিবার, প্রধান আসামি পিচ্চি হেলালকে দ্রুত গ্রেফতারের দাবি

১১

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের নবনির্বাচিত এমপিদের শপথ রবিবার রাত ৯টায়

১২

গুজবের বলি বোয়ালমারীর ট্রাকচালক হান্নান – নগরকান্দায় গণপিটুনিতে মৃত্যু

১৩

লালমোহন উত্তর বাজার মসজিদের টাকা তছরুপের ব্যাপারে ধর্মমন্ত্রীর কাছে লিখিত অভিযোগ

১৪

কাহালুর বিবিরপুকুর শাহ্সুলতান শাহ্জালাল মৎস্য বীজাগার পরিদর্শন করলেন এম পি মোশারফ হোসেন

১৫

চলনবিলে টানা বৃষ্টি ও ঢলের পানিতে ফসলের ক্ষতি

১৬

জামালপুরে অবৈধ ইটভাটায় যৌথ অভিযান, জরিমানা ৫ লাখ টাকা

১৭

বাগেরহাটে সুপেয় পানির সংকট নিরসনে অ্যাডভোকেসি সভা

১৮

ভূরুঙ্গামারীতে শ্বশুরবাড়িতে নির্যাতনে যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় স্ত্রীসহ গ্রেফতার ২

১৯

১৭ বছরের লাখো মানুষের ভাগ্যর পরিবর্তন হয়নি শেরপুরের খন্দকার টোলা–ফুলতলা সড়কে জনদুর্ভোগ চরমে

২০