
শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় টানা বৃষ্টি ও দমকা ঝড়ে ভুট্টা ও ধানের খেতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মাঠজুড়ে হেলে পড়েছে পাকা ধান, নষ্ট হওয়ার পথে ভুট্টা। এতে উৎপাদন খরচ তুলতে না পেরে চরম হতাশায় পড়েছেন কৃষকরা।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে সময়ের আগেই ধান কাটছেন। কোথাও আবার ঝড়ে ভুট্টা গাছ মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। ফলে ফলন কমে যাওয়ার পাশাপাশি বাজারে কম দামে ফসল বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
কৃষক মোঃ আবু সাঈদ জানান, তিনি ২ বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষে প্রায় ৪০ হাজার টাকা খরচ করেছেন। কিন্তু বর্তমান বাজারে দুই বিঘার ভুট্টা বিক্রি হয়েছে মাত্র ২০ হাজার টাকায়। এতে তিনি বড় ধরনের লোকসানে পড়েছেন।
আরেক কৃষক সুজন বলেন, দেড় বিঘা জমিতে ভুট্টা আবাদে প্রায় ২৫ হাজার টাকা ব্যয় করেছেন। কিন্তু ঝড়ের কারণে গাছ হেলে পড়ায় কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এবার লাভ তো দূরের কথা, খরচই উঠবে না।”
কৃষক আবু সাঈদ আরও জানান, ৩ বিঘা জমিতে ধান চাষে তার প্রায় ৪৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু ঝড় ও বৃষ্টিতে পাকা ধান খেতে পড়ে যাওয়ায় এখন চরম ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তিনি। তার ভাষায়, “পানির মধ্যে ধান পড়ে থাকলে ধান নষ্ট হবে, খড়ও কাজে আসবে না।”
এছাড়াও কৃষক শাজাহান, ফরিদ, রফিক হাজি ও শহিদুলসহ অনেকেই তাদের ফসলের ক্ষতির কথা জানিয়েছেন। কৃষকদের অভিযোগ, কৃষি উপকরণের দাম বাড়লেও ফসলের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে দ্রুত সরকারি সহায়তা প্রদান করা হোক। একই সঙ্গে সহজ শর্তে কৃষিঋণ দেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার, ফারজানা আক্তার জানান, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা যাচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৮৭ বিঘা জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণে মাঠ পর্যায়ে কাজ চলছে।”