
সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি: জামালপুরের সরিষাবাড়ী রেলস্টেশনে লাইন ক্লিয়ার নিশ্চিত না করেই ট্রেন ছাড়ার নির্দেশ দেওয়ায় লাইন ব্লাস্টিংয়ের ঘটনা ঘটেছে। এতে অল্পের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ৩৭ আপ ট্রেনটি।স্টেশন মাষ্টারের গাফিলতির কারণে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় আনুমানিক দেড় লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জানা যায়, স্টেশনের ১ নম্বর লাইনে কাজ চলমান থাকায় ট্রেনটিকে ২ নম্বর লাইনে প্রবেশের নির্দেশ দেন স্টেশনে কর্মরত ইলিয়াস নামের এক ব্যক্তি। পরবর্তীতে ট্রেনটিকে মূল লাইন দিয়ে আউট হতে লাইন ক্লিয়ার করা প্রয়োজন হয়।
অভিযোগ রয়েছে, যথাযথভাবে লাইন ক্লিয়ার নিশ্চিত না করেই চালককে ‘লাইন ক্লিয়ার’ সংকেত দেওয়া হয়। এতে ট্রেনটি ২ নম্বর লাইন থেকে মূল লাইনে ওঠার সময় লাইনের ফাঁকে আটকে পড়ে এবং লাইন ব্লাস্টিংয়ের ঘটনা ঘটে।
তবে চালকের দ্রুত সিদ্ধান্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়। এ ঘটনায় ট্রেনের চাকা আটকে যায় এবং রেলের লাইন ভেঙে অকেজো হয়ে পড়ে। এতে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ ওঠে।
খবর পেয়ে জামালপুর থেকে আসা ইঞ্জিনিয়ার ঘটনাস্থলে পৌঁছে ট্রেনটি উদ্ধার করেন। প্রায় এক ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এ বিষয়ে জামালপুর ভূঞাপুর ওয়ের সিনিয়র সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার জানান, নিয়ম অনুযায়ী ট্রেনটি ২ নম্বর লাইনে গ্রহণের পর লাইন ক্লিয়ার করে আউট হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু যথাযথ নিয়ম অনুসরণ না করায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তিনি বলেন, স্টেশন মাস্টারের নিজে নিশ্চিত হয়ে লাইন ক্লিয়ার দেওয়া উচিত ছিল, যা করা হয়নি। ভবিষ্যতে এ ধরনের অবহেলা বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় রেলের লোহার লাইন ভেঙে গেছে এবং তা সম্পূর্ণ পরিবর্তন করতে হবে। এতে আনুমানিক দেড় লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এ বিষয়ে স্টেশন মাস্টার আবুল কালাম হাওলাদার বলেন, “আমি তখন ব্যাংকে টাকা পাঠানোর কাজে ব্যস্ত ছিলাম। আমার ভুল হয়েছে, এটা স্বীকার করছি। এটি দায়িত্বে অবহেলা।”