
বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি: বান্দরবান-এর আলীকদম-থানচি সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলছে প্রাকৃতিক বন উজাড় ও কাঠ পাচারের মহোৎসব। অভিযোগ রয়েছে, একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট গত দুই বছর ধরে পাহাড় কেটে রাস্তা তৈরি করে অবাধে মূল্যবান গাছ কেটে পাচার করছে, যার ফলে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয় সুত্রে জানাযায়, পোলা ব্যাঙ ঝিরির স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বন্ধ করে স্ক্যাভেটরের মাধ্যমে পাহাড় কেটে ট্রাক চলাচলের রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। রাস্তার দুই পাশে স্তূপ করে রাখা হয়েছে গর্জন, চম্পা, কড়ই, বৈলাম ও চাপালিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির ৬০ থেকে ১০০ ফুট দীর্ঘ গাছের গুঁড়ি। যন্ত্রচালিত করাত দিয়ে নির্বিচারে গাছ কাটা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, জোত পারমিট দেখিয়ে অধিকাংশ কাঠ পাচার করা হচ্ছে এবং কিছু কাঠ স্থানীয় অবৈধ ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছে।
এদিকে বন উজাড়ের প্রভাব পড়েছে স্থানীয় জনজীবনে। চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের পামিয়া ম্রো পাড়া, তন্তুই পাড়া, নামচাক পাড়া, কাকই পাড়া ও আদুই পাড়াসহ অন্তত পাঁচটি পাড়ার শতাধিক ম্রো পরিবার তীব্র পানির সংকটে পড়েছে। ব্যাঙঝিরি শুকিয়ে যাওয়ায় খাবার পানি ও মাছ-কাঁকড়ার মতো প্রাকৃতিক উৎস বন্ধ হয়ে গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, দুই বছর আগেও এ এলাকায় ঘন বন ও হরিণ, ভালুকসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী ছিল, যা এখন প্রায় বিলুপ্ত।
অভিযোগ অনুযায়ী, আলীকদমের আবুহান মোহাম্মদ ইসমাইলের নেতৃত্বে প্রায় ৩০ জন শ্রমিক দিয়ে গাছ কাটা হচ্ছে। শ্রমিকদের টিম লিডার মাঝি ইসমাইল জানান, তিনি দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরিতে আটজন শ্রমিক নিয়ে তিন মাস ধরে কাজ করছেন এবং প্রতিদিন একটি ট্রাকে দুইবার করে কাঠ পরিবহন করা হয়।
এ বিষয়ে তৈন রেঞ্জ কর্মকর্তা খন্দকার আরিফুল ইসলাম দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট এলাকায় বন বিভাগের কার্যক্রম নেই, তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে গতকাল ২২ শে এপ্রিল সরজমিনে উল্লেখিত জায়গায় আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুর আলম এর নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করে ২১০ টুকরা গোল কাঠ জব্দ করা হয়,এবং ব্যাবহৃত স্কেবেটর অকেজো করা হয় পরবর্তীতে ২৩শে এপ্রিল আলীকদম উপজেলার বিভিন্ন করাতকলে অভিযান পরিচালনা করে উপজেলা প্রশাসন এসময় একটি করাত কল হতে ৪ হাজার ঘনফুট কাঠ জব্দ করা হয়।
এদিকে কাঠ পাচারের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে লামা বনবিভাগের মামলা পক্রিয়া চলছে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনজুর আলম।
স্থানীয়দের দাবি এ অঞ্চলের অবশিষ্ট বন ও জীববৈচিত্র্য সম্পূর্ণ ধ্বংস বন্ধ করতে প্রশাসনের দ্রুত ব্যাবস্থা গ্রহণ করতে হবে।