
উলিপুর (কুড়িগ্রাাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের উলিপুরে অন্যান্য ফসলাদির পাশাপাশি লাভজনক ফসল হিসেবে সূর্যমুখীর চাষ করেছেন কৃষকেরা। সূর্যমুখী ফুলে ফুলে ভরে গেছে ক্ষেতের চারপাশ। পাশাপাশি কৃষকের মুখেও ফুটে উঠেছে হাসি। গত বছর সূর্যমুখী চাষে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ায় এবছর দ্বিগুন সূর্যমুখীর চাষ করেছেন এ এলাকার চাষিরা।
ইতিমধ্যেই সূর্যমুখী গাছে ফুল ধরতে শুরু করেছে। প্রতিদিন সৌন্দর্য পিয়াসুরা দলবেঁধে পরিবার পরিজন নিয়ে যাচ্ছেন সূর্যমুখী ক্ষেতে। সেখানে অনেকেই ফুলের ঘ্রাণ নিচ্ছেন আবার কেউ ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। এ যেন এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশে। ভোজ্যতেলের মূল্য বৃদ্ধিতে বিকল্প পদ্ধতি ও অধিক লাভের আশায় সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেছেন কৃষকেরা। সূর্যমুখী চাষে কম খরচে অধিক ফলন ও লাভবান হওয়া যায় বলে জানান তারা।
উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়, চলতি বছর ১টি পৌরসভা সহ ১৩টি ইউনিয়নে সূর্যমুখী চাষের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৩ হেক্টর। যা অর্জিত হয়েছে ১২ হেক্টর। উৎপাদন লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫১ মেট্রিক টন। এছাড়া সূর্যমুখীর চাষ বৃদ্ধি করতে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে ৭০ জন কৃষকের মাঝে প্রণোদনা হিসাবে বীজ, সার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে।
এছাড়া চরাঞ্চল সহ বিভিন্ন এলাকায় সূর্যমুখীর প্রদর্শনী রয়েছে ২০টি। এসকল চাষিদের বিভিন্ন ধরনের বিভিন্ন ধরনের রোগবালাই পোকামাকড় নিধন সম্পর্কে পরামর্শ দেয়া অব্যহত রয়েছে।
সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সূর্যমুখী ফুলের ক্ষেত ফুলে ফুলে ভরে গেছে। পরিচর্যায় ব্যাস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। এসব এলাকায় সূর্যমুখী চাষে বদলে গেছে আশেপাশের দৃশ্যপট। দৃষ্টিনন্দন হলদে সূর্যমুখী বাগানের ফুলগুলি যেন সূর্যের দিকে তাকিয়ে হাসছে। সূর্যমুখী ফুলের ক্ষেত দেখতে প্রতিদিনই বিভিন্ন স্থান থেকে অনেক দর্শনার্থীরা আসছেন।
ফুলের সৌন্দর্যে মহিত হয়ে অনেকে ছবি তুলছেন। ভোজ্যতেলের মূল্য বৃদ্ধিতে বিকল্প পদ্ধতি ও অধিক লাভের আশায় সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেছেন কৃষকেরা। সূর্যমুখী চাষে কম খরচে অধিক ফলন ও লাভবান হওয়া যায় বলে জানান তারা।
উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের দড়িকিশোরপুর এলাকার কৃষক আনোয়ার আলী বলেন, উপজেলা কৃষি অফিসের সহায়তায় ৩৩ শতক জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেছেন। অফিস থেকে বিনামূল্যে বীজ ও সার দিয়েছেন। এখন পর্যন্ত খরচ হয়েছে প্রায় ৬ হাজার টাকা।
ফলন ঘরে উঠানো পর্যন্ত আরও খরচ হবে প্রায় ২ হাজার টাকা। মোট খরচ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ৮ হাজার টাকা। এখন পর্যন্ত ফলন যে ভাবে হয়েছে তাতে লাভ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের আশরাফুল ও হাতিয়া ইউনিয়নের আন্দারু বর্মন সহ আরও অনেক চাষি বলেন, ভোজ্যতেলের মূল্য বৃদ্ধিতে বিকল্প পদ্ধতি ও অধিক লাভের আশায় সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেছেন তারা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবারে ফলন অনেক ভালো হয়েছে। এছাড়া সূর্যমুখী চাষে কম খরচে অধিক ফলন ও লাভবান হওয়া যায় বলে তারা জানান।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মেহেরুল ইসলাম বলেন, সূর্যমুখী ফুলের তেল স্বাস্থ্যসম্মত ও বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকর। এ তেলের ব্যবহার বাড়ানো গেলে স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকটাই কমবে।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল জানান, সূর্যমুখী ফুলের চাষ কৃষকদের নিকট জনপ্রিয় করতে চরাঞ্চলে চর প্রকল্পের আওতায় ৩৩ শতক করে পতিত জমিতে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে প্রদর্শনি রয়েছে এ সকল কৃষকদের প্রনোদনা হিসাবে বিনা মূল্যে বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। সূর্যমুখীর ফলন অনেক ভালো হওয়ায় চরাঞ্চল গুলোতে ব্যাপক সারা পড়েছে। তিনি আশা করছেন আগামিতে অনেকেই সূর্যমুখীর চাষ করবেন বলে জানান তিনি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষিবিদ মোশারফ হেসেন জানান, সূর্যমুখী ফুলের চাষ একটি লাভজনক ফসল। সূর্যমুখী ফুলের তেল অত্যন্ত পুষ্টিকর ও ভিটামিন ’এ’ সমৃদ্ধ ভোজ্যতেল। সূর্যমুখী ফুলের তেল স্বাস্থ্যসম্মত ও বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকর। এছাড়া ভোজ্যতেলের মূল্য বৃদ্ধিতে বিকল্প পদ্ধতি হিসাবে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করার জন্য উদ্বোদ্ধ করা হচ্ছে বিভিন্ন এরাকার কৃষকদের।