
রাজবাড়ী জেলা প্রতিনিধি : রাজবাড়ীতে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও স্মৃতিচারণমূলক আলোচনার মধ্য দিয়ে অগ্নিযুগের বিপ্লবী বৃটিশবিরোধী সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক কমরেড আশুভরদ্বাজের ৩৩ তম মৃত্যু বার্ষিকী পালন করা হয়েছে।
শনিবার বিকেলে জেলা উদীচীর উদ্যোগে শহরের আজাদী ময়দান সংলগ্ন সংগঠনের মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
জানা যায়, অনুষ্ঠানের শুরুতে বিকেল সাড়ে তিনটায় চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা শুরু হয়। এতে চার বিভাগে মোট ৪৬ জন প্রতিযোগী অংশ নেয়। চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা শেষে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে স্মৃতিচারণ মূলক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয়।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা উদীচীর সহসভাপতি আজিজুল হাসান খোকা। সাধারণ সম্পাদক এজাজ আহম্মেদের সঞ্চালনায় স্মৃতিচারণ মূলক বক্তব্য দেন, জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি কমরেড আব্দুস সামাদ মিয়া, সাধারণ সম্পাদক ধীরেন্দ্র নাথ দাস, জেলা উদীচীর সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. গোলাম আলী, কমল কান্তি সরকার প্রমুখ।
আলোচনা শেষে বিজয়ী প্রতিযোগীদের হাতে পুরষ্কার তুলে দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, জন্ম সূত্রে গোপালগঞ্জের অধিবাসী আশু ভরদ্বাজ জেলখানার বাইরে রাজবাড়ীতে জীবনের বেশির ভাগ সময় থেকেছেন। জাতীয় রাজনীতিতে বিচরণ থাকলেও কর্মক্ষেত্র ছিল বৃহত্তর ফরিদপুর জেলা।
১৯২০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বর্তমান গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া থানার ঊনশিয়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত ব্রাহ্মণ পরিবারে কমরেড আশু ভরদ্বাজ জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম উমাচরণ ভরদ্বাজ জ্যোতিভূষণ, মাতা অন্নদা সুন্দরী দেবী। চার ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়।
গোপালগঞ্জের অধিবাসী হলেও তিনি রাজবাড়ীতে বেশি সময় বসবাস করেছেন। তিনি সমাজতন্ত্রের লড়াই করতে গিয়ে আজীবন কুমারিত্ব পালন করছেন। তিনি ছিলেন সত্যবাদী।
কমরেড আশু ভরদ্বাজ ছিলেন অগ্নিযুগের মহান বিপ্লবী, ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামী, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অকুতোভয় লড়াকু সৈনিক, মহান মুক্তিযুদ্ধে ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়ন সমন্বয়ে গঠিত বন্গাঁ ক্যাম্প ইনচার্জের দায়িত্ব পালন করেছেন।
রাজশাহী জেলের খাপড়া ওয়ার্ডের নির্মম নির্যাতনের স্বাক্ষী, আন্দামান ফেরত বন্দি, ৩১ বছর কারাবরণকারী, অকৃতদার, সৎ প্রজ্ঞাবান রাজনীতিবিদ। ১৯৯৩ সালের ১৬ এপ্রিল তিনি মারা যান।