
শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার বৈরাগীর চালা এলাকায় একটি বসতবাড়ির মাঝখান দিয়ে জোরপূর্বক অবৈধ উপায়ে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে। বসতবাড়ির মাঝখান দিয়ে রাস্তা নির্মাণে বাধা দিতে গেলে হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন বাড়ির মালিক মরহুম সাত্তার খানের মেয়ে নূরুন্নাহার (৫৯)।
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ঘটনায় বাড়ির মালিক নুরুন্নাহার আক্তার বাদী হয়ে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় শ্রীপুর থানা একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। থানার অভিযোগ স্থানীয়রা জানান, গত ১২ এপ্রিল দুপুরে মৃত আব্দুল হাই খানের ছেলে মামুন খান ও হাবিবুল্লাহ খানের নেতৃত্বে ১০/১২ জনের একটি সংঘবদ্ধদল দেশীয় অস্ত্র দা লাঠি লোহার রড নিয়ে সাত্তার খানের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে।
এ সময় তারা বাড়ির ভিতরের গাছপালা কেটে ফেলে, সাবমার্সিবল পানির পাম্প ভাঙচুর করে এবং বাড়ির সেপটিট্যাংকের উপর দিয়ে জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু করে। খবর পেয়ে বাড়ির সদস্যরা বাঁধা দিতে গেলে হামলাকারীরা তাদের সঙ্গে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে। একপর্যায়ে নূরুন্নাহারকে এলোপাতাড়ি মারধর করে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয় এবং তার বুকে ও পেটে ইট দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
আহত নূরুন্নাহারকে প্রথমে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ গাজীপুর হাসপাতালে রেফার্ড করেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসা শেষে বাড়িতে রয়েছেন। স্থানীয় সাংবাদিকদের নূরুন্নাহার বলেন,এটি আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি। আমরা বোনেরা মিলে এখানে বাড়ি করেছি। অভিযুক্তরা পৌরসভার নাম ভাঙিয়ে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে আমাদের জমির ওপর দিয়ে রাস্তা করতে চাইছে। আমি বাধা দেওয়ায় আমার ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে মীমাংসার জন্য স্থানীয়ভাবে একটি সালিশি বৈঠকের আয়োজন করা হলেও সেখানে অভিযুক্তদের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ও হট্টগোলের কারণে সালিশ স্থগিত হয়ে যায়। এ সময় ঘটনাস্থলে তথ্য সংগ্রহ করতে যাওয়া সাংবাদিকদের সঙ্গেও অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়, যা স্থানীয় সাংবাদিকদের তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সালিশি ভেস্তে যাওয়ার পর ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য লুৎফুন্নাহার লতা তাদের জমিতে গেলে অভিযুক্ত মামুন খান মারমুখী আচরণ করেন। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, অভিযুক্তদের যাতায়াতের জন্য আগে থেকেই দুটি রাস্তা রয়েছে। তা সত্ত্বেও তারা জোরপূর্বক নতুন রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা করছেন।
এ ঘটনায় গত বছরের নভেম্বর মাসে শ্রীপুর পৌর প্রশাসকের কাছে প্রথম অভিযোগ করা হয়। পরবর্তীতে হামলার পর শ্রীপুর মডেল থানায় এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। শ্রীপুর পৌরসভা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উক্ত স্থানে কোনো নতুন রাস্তা নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হয়নি। পৌরসভার নাম ব্যবহার করে কেউ এ ধরনের কাজ করলে তা সম্পূর্ণ অবৈধ। ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।
অভিযুক্ত মামুন খানের সাথে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করে ও ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাসির আহমেদ জানান রাস্তা নির্মাণের বাধা ও হামলার ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। একজন এসআই (উপ- পরিদর্শক) কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।