
মজিবুর রহমান, কেন্দুয়া : নেত্রকোণার কেন্দুয়া থানা ওসি মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আইসোলেশনে থেকেও কেন্দুয়াবাসীর কথা ভাবছেন। তিনি তার ফেইসবুক ওয়ালে ও বিভিন্নভাবে জনসাধারণকে করোনা বিষয়ে সর্তক ও পরার্মশ দিয়ে যাচ্ছেন। অপরদিকে তার অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়লে হতবাক হয় কেন্দুয়াবাসী তথা তার শুভাকাঙ্খিরা। ওসি রাশেদুজ্জানকে নিয়ে স্মৃতিচারণ, তার কর্মকান্ডের ভূয়সী প্রসংশা ও দোয়া কামনা করতে থাকেন।
আজ (১৫ মে) শুক্রবার দুপুরে থানা কোয়াটারে আইসোলেশনে থাকা ওসি রাশেদুজ্জানের সাথে দেখা করতে গেলে তিনি বলেন, পুলিশের চাকুরী করে এত মানুষের ভালবাসা পাবো কল্পনাও করি নাই কোন দিন। আমার অসুস্থ্য খবর ছড়িয়ে পরার সাথে সাথে হাজারো ফোন আসে। সব ফোন আমি রিসভও করতে পারিনি।
প্রতিদিন তার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে শুভাকাঙ্খীদের শত শত কল আসের তার মুটোফোনে। কিন্তু সব ফোন তিনি রিসিভ পারেন না নানা কারণে এজন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করছেন। তার সার্বিক খোঁজ রাখছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল এবং তার সহধর্মিণী অধ্যাপিকা অপু উকিল ও পুলিশ সুপার আকবর আলী মুন্সীসহ উধ্বর্তণ কর্মকর্তাগণ। এছাড়াও নিজ এলাকার সাংসদসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাও তার খোঁজ নিচ্ছেন বলে জানান তিনি।
কেন্দুয়াবাসীর উদ্দেশ্যে তার ফেইসবুক ওয়ালে দেয়া স্ট্যাটাসটি হুবাহুব পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো-
প্রিয় কেন্দুয়া বাসি,
আপনাদের ভালোবাসা,সহানুভূতি,সহমর্মিতায় মনে হয় জন্ম স্বার্থক। আপনাদের অকৃত্রিম ভালোবাসায় মুগ্ধ।জানি না, এর মর্যাদা দিতে পারবো কি না?কাজ করতে গিয়ে যখন আমার ও ইউএনও মহোদয়ের করোনা ভাইরাসের রিপোর্ট পজেটিভ আসে,তখন থেকেই হাজারো ফোন। কি হয়েছে? এ কি শুনলাম? অনেকে দ্বিধা দন্ডে।ওসি এবং ইউএনও এক সাথে করোনায় আক্রান্ত? শত প্রশ্ন। অনেক প্রিয়জনের,শুভাকাঙ্ক্ষী,সহকর্মীদের ফোন রিসিভ করতে পারি নাই। মসজিদে,মসজিদে দোয়াও করছেন। যাঁর যাঁর অন্তরের আবেগ, ভালোবাসা প্রকাশ করছেন একেক ভাবে।পুলিশের কাজ করে ভালোবাসা অর্জন করা দুষ্কর ব্যাপার।তদন্তের ক্ষেত্রে বাদী কিংবা বিবাদীর যে কোন একপক্ষ অসন্তুষ্ট হবে।আমি কেন্দুয়া থানায় যোগদানে পর থেকে চেষ্টা করেছি আইনের মধ্যে থেকে সর্বোত্তম সেবা দেওয়ার। ন্যায় বিচার কায়েম করা।বিপথগামী যুবসমাজ কে সঠিক পথে এনে মাদকমুক্ত কেন্দুয়া গড়া। সর্বচ্চো শ্রম দিয়েছি – কেন্দুয়াকে ভালো রাখার জন্য। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে হয়তো অনেক সময় কঠুর হতে হয়েছে। এতে অনেকে কষ্টও পেতে পারেন। করোনা ভাইরাস পজেটিভ এ কথা যে কোন বীর বাহাদুর শুনলেও থমকে যাবে। বিষয়টি হালকা করে দেখার সুযোগ নেই।এতো সর্তক, সুরক্ষা থেকেও কাজ করতে গিয়ে নিজেকে রক্ষা করতে পারিনি এ অদৃশ্য শক্তি থেকে। আল্লাহর রহমতে সকলে দোয়ায় ইনশাআল্লাহ জয়ী হবোই। অনুরোধ একটাই -সময় থাকতে সর্তক হউন। বিশেষ কাজ ছাড়া বাইরে থাকবেন না। মাস্ক ও সামাজিক দুরত্ব মেনে চলুন। জাতীয় নিদের্শনা পালন করুন।
উল্লেখ্য, ১১ মে কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আল-ইমরার রুহুল ইসলাম,ওসি রাশেদুজ্জামান,ইউএনও অফিসের অফিস সহায়ক আলী,কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নার্স লাভলী আক্তার,হেড ক্লার্ক আবুল কালাম আজাদ,ওয়ার্ডবয় মিনারুল ইসলামের করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসে। এক সাথে ৬ জনের পজিটিভ রির্পোট আসায় অবাক হন কেন্দুয়া সর্বস্থরের জনগণ।