
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : গোপালগঞ্জে বার্ষিক বিচার বিভাগীয় সম্মেলন-২০২৫ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৪ এপ্রিল) সকাল ১০ টায় গোপালগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত ভবনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ সামছুল হক।
মূলতঃ বিচার বিভাগের কার্যক্রমের গুণগত মান বৃদ্ধি, বিচার ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিশ্চিত করা এবং ন্যায়বিচার প্রাপ্তির পথ সুগম করাই এ অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানের সভাপতি সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ সামছুল হক বার্ষিক এ সম্মেলনে উপস্থিত সকলের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, জেলা বিচার বিভাগের দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০২৫ সালে মোট মামলার সংখ্যা ছিলো ১৭,০৭৪ টি এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ১৬,৩৯৯ টি যা আনুপাতিক হারে প্রায় ৯০% । সংশ্লিষ্ট সকলের সার্বিক সহযোগিতায় এ মামলাগুলো নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়েছে।
২০২৬ সালে ৩৬,৪০৯ টি মামলা দিয়ে নতুন বছর শুরু হয়েছে, আসলে যতগুলো মামলা দায়ের হয়েছে, ততগুলো মামলা নিষ্পত্তি করতে পারলেই ভালো হতো। এই যে গোপালগঞ্জ বিচার বিভাগ এগুলো নিষ্পত্তি করতে পারলো না জেলা বিচার বিভাগের অভিভাবক হিসেবে এর সকল দ্বায়-দ্বায়িত্ব আমি নিজেই বহন করছি। আর যতটুকু সফলতা অর্জন হয়েছে তা আপনাদের জন্যই হয়েছে। সম্মানিত অতিথি আপনারা আপনাদের বক্তব্যে গোপালগঞ্জ বিচার বিভাগকে কেউ স্বর্ণযুগ বলেছেন আবার কেউ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। প্রশংসা শুনতে কার না ভালো লাগে, আপনারা (আইনজীবীগণ) কিছু ভুল ত্রুটি ধরিয়ে দিয়েছেন, আপনারা যদি আরো বেশি ভুল ত্রুটি ধরিয়ে দিতেন আমি বিচারক মোহাম্মদ শামছুল হক আপনাদের প্রতি আরো বেশি কৃতজ্ঞ থাকতাম।
এ সময় তিনি সম্মেলনে উপস্থিত বিচারকগণের প্রতি মামলার নথি সংরক্ষণে অধিক মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন। বিচারপ্রার্থীরা নিরুপায় হয়ে ন্যায় বিচার পাওয়ার আশায় আদালতের দ্বারস্থ হন। এ বিষয়টি সকলকে অনুধাবন করতে হবে। বিচার প্রার্থীরা যেন দ্রুত সময়ের মধ্যে ন্যায়বিচার পেতে পারেন সেজন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে সততা ও নিষ্ঠার সাথে অর্পিত দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। পরিশেষে তিনি গোপালগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার ও জেল সুপার উভয়ের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এই অর্থে যে, তারা তাদের শত ব্যস্ততার মাঝেও ছোটখাটো ভুল ভ্রান্তি হওয়া সত্ত্বেও সমস্ত দোষ মেনে নিয়ে সুশাসন ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এছাড়াও গোপালগঞ্জ জেলা গণপূর্ত বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরকে জেলা বিচার। ,।বিভাগের সমস্ত শৌচাগারগুলো দ্রুত ব্যবহার উপযোগী করে গড়ে তোলার দিক নির্দেশনা দেন। তিনি।
সিভিল জজ (কোটালীপাড়া) সুজাতা আমিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন, গোপালগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (সিনিয়র জেলা জজ) সৈয়দ আরাফাত হোসেন, পারিবারিক আপিল ট্রাইবুনালের বিচারক (জেলা জজ) শাহনাজ নাসরিন খান, গোপালগঞ্জ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আশিকুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (১ম আদালত) পারভেজ আহম্মেদ, জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের প্রতিনিধি, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফারিহা তানজিন, জেলা পুলিশ সুপার মোঃ হাবীবুল্লাহ, জেল সুপার মোঃ শাহ আলম, গোপালগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (ই/এম) তন্ময় কর্মকার, গোপালগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব ও সরকারি কৌশুলী (জিপি) অ্যাডভোকেট এম এ আলম সেলিম, সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট আহমেদ নওশের আলী, সুনীল কুমার দাস, চৌধুরী খসরুল আলম, অ্যাডভোকেট মেহেদী হাসান নয়ন প্রমুখ।
বক্তারা ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় শত বাধা-বিপত্তি কাটিয়ে কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছতে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এ সময় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (২য় আদালত) মোঃ আনিসুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (৩য় আদালত) আলাউল আকবর, যুগ্ম দায়রা জজ (১ম আদালত) সমীর মল্লিক, যুগ্ম দায়রা জজ (২য় আদালত) মোঃ ইয়াছন আরাফাত, সিনিয়র সিভিল জজ (গোপালগঞ্জ সদর আদালত) মোঃ সালাহ্ উদ্দিন, সিনিয়র সিভিল জজ (মুকসুদপুর) মোঃ শফিকুল ইসলাম, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার (সিনিয়র জজ) মোঃ সফিকুল ইসলাম, সিভিল জজ (টুঙ্গিপাড়া) অমল কুমার দাস, সিভিল জজ (কাশিয়ানী) রুবাইয়া ইয়াসমিন, কোর্ট পরিদর্শক বিধান চন্দ্র রায়, সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট কাজী আবুল বশার, আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইকবাল হোসেন, আজাদুল ইসলাম পলাশ, জেলা ও দায়রা জজ আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ সামসুল হক, নাজির খন্দকার আবু সাঈদ, চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ মনিরুল ইসলাম, মানবাধিকার ও গণমাধ্যমকর্মী কে এম সাইফুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শুরুর পূর্বে পবিত্র কোরআন শরীফ থেকে তেলাওয়াত ও তরজমা পাঠ করেন শেখ সাদী এবং পবিত্র গীতা থেকে পাঠ করেন রাইসা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাইসা সরকার।