Shakil Shah
১৬ জানুয়ারী ২০২১, ৪:০৪ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

বেড়ায় বাঁশপণ্যে উপার্জন

বসন্ত দাস, বেড়া (পাবনা) :

 

পাবনার বেড়া উপজেলার শত শত পরিবারের রুটি-রুজির একমাত্র অবলম্বন বাঁশের তৈরি পণ্য। উপজেলার নাকালিয়া, হাটুরিয়া, রাকশা, কৈতলা, নগরবাড়ী, কাজিরহাট, আমিনপুর, মাসুমদিয়াসহ বেড়া পৌর এলাকার শেখপাড়া এলাকার প্রায় দুই শতাধিক পরিবার বাঁশপণ্যের সঙ্গে জড়িত। এ পেশাতেই চলে তাদের জীবন জীবিকা। বেড়া পৌর এলাকার শেখ পাড়া মহল্লার প্রায় সব পরিবার এ পেশার সঙ্গে যুক্ত। শিশু থেকে বৃদ্ধ এমনকি শিক্ষার্থীরাও এসব পেশায় জড়িত। বাঁশ দিয়ে চাটাই, (তালাই) ধান রাখার ডোল, ডালা, চালনি, কুলা, হাঁস-মুরগির বাচ্চা পালনের খাঁচা ইত্যাদি গৃহসজ্জার বাহারি পণ্য ও দৈনন্দিন কাজের নানা রকম জিনিস তৈরি করেন তারা। এসব বিক্রি করে চলে তাদের ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া ও সংসার খরচ। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও ধার-দেনায় পুঁজি খাটিয়ে বাপ-দাদার এ পেশা আঁকড়ে ধরে রেখেছেন বেড়া উপজেলার শত শত কারিগর। তাদের তৈরি পণ্য রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে সরবরাহ করা হয়। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকাররা এখান থেকে বাঁশের তৈরি বিভিন্ন পণ্য কিনে নেন। স্থানীয় বিভিন্ন হাট-বাজারে প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ হাজার এবং গ্রামে গ্রামে ঘুরে এক থেকে দেড় হাজার টাকার বাঁশ পণ্য বিক্রী করতে পারেন খুচরা বিক্রেতারা। তাতে প্রতিজনের গড়ে প্রতিদিন লাভ থাকে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। আর এই লভাংশের টাকা দিয়েই ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া খরচসহ সংসারের খরচ মেটাতে হয়
তাদের।
এ শিল্পের সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে ইশারত শেখ, ফজলাল শেখ, সিদ্দিক শেখ, অজয় মালী, মন্টু চন্দ্র বিশ^াসসহ অনেকেই নিজের মতো করে বলেন,আমাগরে টাহা পয়সা কম তাই বেশী কইর‌্যা বাঁশ কিনব্যার পারিনা। সরকার যদি ব্যাংক থেকে আমাগরে ঋণ দিত তাইলে আমরা অনেক কিছু করতে পারতাম। এতে সরকারেরও লাভ হোত, আমরাও লাভবান হতে পারত্যাম। তারা আরো জানান, সরকার তাদের সহজ ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করে দিলে নিয়মিত কিস্তির মাধ্যমে ঋণ পরিশোধ করে ব্যাংকিং খাতেও সুনাম অর্জন করতে পারতেন। অর্থনৈতিক সমস্যা দূর করা গেলে তাদের কাজের গতি বেড়ে যাবে এবং শ্রমের অপচয় হবে না। তবে ক্ষতিকর প্লাষ্টিক পণ্যের ভিরে ঐতিহ্যবাহী ও পরিবেশবান্ধব বাঁশশিল্প আজ ধ্বংসের মুখে দিন দিন কমছে বাঁশ শিল্পের সঙ্গে জড়িতদের সংখ্যা। তাই এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন সরকারি-বেসরকারি পৃষ্টপোষকতা।
এ বিষয়ে বেড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ভোরের দর্পণকে জানান, বাঁশের ঝাড় বা যেকোন বাঁশ বেশি পুরনো হয়ে গেলে প্রকৃতিগত কারণেই মারা যায়। পুরোনো বাঁশ দিয়ে কৃষি পণ্য তৈরি করে বাজারজাতকরণের মাধ্যমে উপজেলার অনেক পরিবার জীবিকা নির্বাহ করছে। তবে অত্যাধুনিক বা প্লাষ্টিক পণ্য সহজলভ্য হওয়ায় বাঁশ শিল্প হুমকির মুখে রয়েছে। এ শিল্প টিকিয়ে রাখতে এবং ঘরবাড়ি প্রাকৃতিক দুর্যোগের হাত থেকে রক্ষা করতে বাড়ির আঙ্গিনায় পতিত জমিতে বাঁশ রোপণ করার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন বলে তিনি জানান।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বাগেরহাটে অর্থ সহায়তা পেলেন সু‌বিধাব‌ঞ্চিত ২৫ প্রান্তিক নারী

খুলনায় গতবারের চেয়ে এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থী কম

সরিষাবাড়ীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ

নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে সিরিজ সমতায় ফিরলো টাইগাররা

১৯ দিনেই রেমিট্যান্স ছাড়ালো ২ বিলিয়ন ডলার

শ্রীপুরে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন

বাঞ্ছারামপুরে টুইন পিট ল্যাট্রিন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, ২ বছরেও কাজ শেষ হয়নি

সংরক্ষিত আসনে মাদারীপুরে হেলেন জেরিন খান মনোনয়ন পাওয়ায় আনন্দ মিছিল

নরসিংদীতে ধর্ষকদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন

পটুয়াখালীতে হাম-রুবেলার টিকাদান কার্যক্রমের উদ্বোধন

১০

সমন্বয়হীনতা ও অনিয়মের অভিযোগ ভেঙ্গেছে ফসল রক্ষা বাঁধ

১১

খুলনায় হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন

১২

দেওয়ানগঞ্জে অসামাজিক কার্যকলাপ রোধে অভিযান: আটক ২

১৩

“বাংলাদেশে প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ” শীর্ষক কর্মশালা আয়োজন করল এমটিবি

১৪

শ্রীপুরে জেলাশ্রমিকদল নেতার বিরুদ্ধে অপ-প্রচার, থানায় জিডি

১৫

এনআরবি ইসলামিক লাইফ ইন্স্যুরেন্সে ‘Meet the Leaders’ অনুষ্ঠিত

১৬

হাবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি তালহা, সাধারণ সম্পাদক রাফিউল

১৭

গোবিপ্রবি’তে গবেষণা সংকলন-২০২৬’র মোড়ক উন্মোচন

১৮

ইবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নিলেন হাসান ও রশিদ

১৯

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় অটোরিকশার ধাক্কায় শিশুর মৃত্যু

২০