Bhorer Darpan
১৮ নভেম্বর ২০২৪, ৪:৩২ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের অধিনায়ক জাকারিয়া পিন্টু আর নেই

স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের অধিনায়ক জাকারিয়া পিন্টু আর নেই
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর ইবনে সিনা হাসপাতালে আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছিলেন স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের অধিনায়ক জাকারিয়া পিন্টু। হার্ট, লিভার ও কিডনি-শরীরের তিনটি অঙ্গেই সমস্যা ধরা পড়েছিল তার। অবশেষে তিনি হার মানলেন। ৮৫ বছর বয়সে পৃথীবির মায়া ত্যাগ করলেন পিন্টু। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) জাকারিয়া পিন্টুর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।

রোববার সন্ধ্যায় হার্টে ব্যথা হলে মাটিতে পড়ে যান। এরপর কিংবদন্তি এ ফুটবলারকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসেন ছেলে তানভির। তিনি বলেন, ‘বাসায় হঠাৎ করেই বাবা মাটিতে পড়ে যান। হাসপাতালে নিয়ে আসার পর চিকিৎসক জানিয়েছেন হৃদ্যন্ত্রে ব্যথা হওয়ায় এ অবস্থা হয়েছে। এছাড়া পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা যায়, লিভার ও কিডনিতে সমস্যা রয়েছে।’

জাকারিয়া পিন্টুর মাঠের ও মাঠের বাইরের সতীর্থ এবং তারকা ফুটবলার প্রতাপ শঙ্কর হাজরা জানিয়েছিলেন, ‘পিন্টু ভাই বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি। আমি তাকে দেখে এসেছি। তার এক ছোট ভাইও ডাক্তার। তিনি আমাকে জানিয়েছেন, ওনার (পিন্টুর) হার্ট, লিভার ও কিডনি খারাপ হয়ে গেছে। তার চিকিৎসা চলছে। আমরা সবাই তার সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করছি।’

মুক্তিযুদ্ধে বাংলার আপামরসাধারণ শুধু অস্ত্র হাতেই নয়, তারা লড়েছেন গান, কবিতা ও ফুটবল পায়ে নিয়েও। বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ চলাকালীন ফুটবলের জাদু দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত তৈরির কাজ করেছিল ‘স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল’।

সেই দলের অকুতোভয় অধিনায়ক ছিলেন জাকারিয়া পিন্টু। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে জাকারিয়া পিন্টু ও তার নেতৃত্বাধীন ‘স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের’ নাম অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে চিরকাল। তবে শুধু স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের হয়ে নন, একজন অসাধারণ ফুটবলার এবং অধিনায়ক হিসাবেও স্মরণীয় হয়ে থাকবেন সাবেক এই ডিফেন্ডার।

১৯৭১ সালে তার নেতৃত্বে স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল ভারতের নদীয়াসহ বিভিন্ন রাজ্য ও জেলায় ১৬টি ম্যাচে অংশ নিয়ে ১২টিতে জিতেছিল। ওই ম্যাচগুলো খেলে যে অর্থ সংগ্রহ হয়েছিল, তা তৎকালীন মুক্তিযুদ্ধ তহবিলে দিয়েছিলেন তারা।

১৯৭২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকা স্টেডিয়ামে রাষ্ট্রপতি একাদশ ও মুজিবনগর একাদশের মধ্যে প্রথম ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। মুজিবনগর একাদশের অধিনায়ক ছিলেন এই ডিফেন্ডার। এছাড়া বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের প্রথম অধিনায়ক ছিলেন তিনি।

১৯৭৩ সালে মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত ১৯তম মারদেকা ফুটবলে বাংলাদেশ দলকে নেতৃত্ব দেন। স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল, বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক এবং একজন দুর্দান্ত খেলোয়াড় হিসাবে তিনি ইতিহাস হয়ে আছেন। খেলোয়াড়ি জীবন শেষে সংগঠকও ছিলেন। ঐতিহ্যবাহী মোহামেডানের পরিচালক পদেও কাজ করেছেন সাবেক এই তারকা ফুটবলার।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

শ্রীপুরে ভাতিজার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে চাচার সংবাদ সম্মেলন

কৃষিকে আধুনিকায়নে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট

ভূরুঙ্গামারীতে ৩শ পিচ ইয়াবাসহ ৪ মাদক কারবারি গ্রেফতার

সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের ধারক-বাহক হিসেবে নববর্ষ উৎসবের গুরুত্ব অপরিসীম: রাষ্ট্রপতি

স্পষ্টতই ট্রাম্প মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন : সিআইএর সাবেক পরিচালক

রাস্তা পারাপারে আইন না মানলে পথচারীর জেল-জরিমানা

নাগেশ্বরীতে পাম্পে তেল নিতে গিয়ে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার ৩ মামলার আসামি

রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় শিশুদের সৃজনশীলতার ঝলক

বাউফলে ‘জনতার কল সেন্টার’ চালু

পারকিনসন্স রোগ: ঝুঁকি, উপসর্গ ও জীবনব্যাপী চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা

১০

বিজয়নগরে স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও প্রতিবর্তন হলো না কৃষকের ভাগ্য

১১

শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে ফিরিয়ে আনা ও সুশিক্ষায় গড়ে তোলা আমাদের সামাজিক দায়িত্ব -আনু এমপি

১২

নাগেশ্বরী সীমান্তে বিএসএফের হাতে দুই বাংলাদেশি আটক

১৩

পহেলা বৈশাখ আমাদের আত্মপরিচয়ের এক অনন্য প্রতীক: প্রধানমন্ত্রী

১৪

লালপুরে আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভা

১৫

রাঙামাটিতে বন্যহাতির আক্রমণে একজনের মৃত্যু

১৬

বোয়ালখালীতে মেছো বাঘ উদ্ধার

১৭

ভূরুঙ্গামারীতে বীজ ও সার বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন এমপি আনোয়ারুল

১৮

চিরিরবন্দরে লিচুর বাগান থেকে দেড় কোটি টাকার মধু আহরনের সম্ভাবনা

১৯

উলিপুরে বৃদ্ধের রহস্যজনক মৃত্যু

২০