
বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: সমাজ থেকে মাদক নির্মূল ও অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানের বার্তা দিলেন বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন। তিনি মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারীদের বিয়ে বাড়িসহ সব ধরনের সামাজিক অনুষ্ঠান থেকে বয়কট করার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি গ্রামভিত্তিক সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বৃহস্পতিবার (দুপুর সাড়ে ১২টা) উপজেলার ময়েনদিয়া বাজারে আয়োজিত এক সচেতনতামূলক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় মাদক, ইভটিজিং, অনলাইন জুয়া, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, বাল্যবিবাহ ও আত্মহত্যার মতো সামাজিক ব্যাধি প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
ওসি আনোয়ার হোসেন বলেন, মাদক শুধু একটি নেশা নয়-এটি সকল অপরাধের মূল উৎস। মাদকের কারণে পরিবারে অশান্তি, আর্থিক সংকট এবং সামাজিক অবক্ষয় দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বহু সম্ভাবনাময় তরুণ মাদকের ছোবলে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, যা পুরো সমাজের জন্য ভয়াবহ সংকেত। তিনি বলেন, মাদককে না বলতে হবে—এটি কোনো ব্যক্তিগত বিষয় নয়, বরং পুরো সমাজের অস্তিত্বের সঙ্গে জড়িত।
তিনি আরও বলেন, সমাজে মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের প্রতি সামাজিক চাপ সৃষ্টি করতে হবে। তাদের বিয়ে, মিলাদ, মাহফিল, পূজাপর্বণসহ কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে দাওয়াত না দিয়ে এক ধরনের সামাজিক বয়কট গড়ে তুলতে পারলে মাদক নির্মূলে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বাল্যবিবাহ প্রসঙ্গে ওসি বলেন, এখনো অনেক এলাকায় বাল্যবিবাহের প্রবণতা উদ্বেগজনক। এর ফলে কিশোরী মায়েদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে এবং শিশু মৃত্যুর হারও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি স্থানীয় অভিভাবক ও জনপ্রতিনিধিদের এ বিষয়ে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
অনলাইন জুয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রযুক্তির অপব্যবহারের কারণে অনলাইন জুয়ার বিস্তার দ্রুত বাড়ছে, যা তরুণ সমাজকে বিপথে ঠেলে দিচ্ছে। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং শিগগিরই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে তিনি জানান।
ওসি আনোয়ার হোসেন অপরাধ দমনে জনগণের সহযোগিতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বলেন, পুলিশ একা সব কিছু করতে পারে না। অপরাধ দমনে তথ্যই সবচেয়ে বড় শক্তি। সঠিক ও সময়োপযোগী তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করলে অপরাধ দমন অনেক সহজ হবে।
সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বোয়ালমারী থানার ওসি আনোয়ার হোসেন। এছাড়া ডহরনগর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ রোমান সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা মাদক ও অন্যান্য সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি নিরাপদ ও সুস্থ সমাজ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।