
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শ্রীমন্ত নদী এখন মৃত্যুর প্রহর গুনছে। একসময় প্রবল স্রোত আর নৌযানের কোলাহলে মুখর থাকা নদীটি আজ দখল, দূষণ ও অব্যবস্থাপনায় প্রায় বিলীন হওয়ার পথে। স্থানীয়দের ভাষায়, “নদী নয়, এখন এটি একটি মরা খাল।”
সরোজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, নদীর বিস্তীর্ণ অংশ জুড়ে গড়ে উঠেছে অবৈধ স্থাপনা। কোথাও ঘরবাড়ি, কোথাও দোকানপাট—আবার কোথাও পুরো নদীর অংশই দখল হয়ে গেছে। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক স্থানে নদীর প্রস্থ আগের তুলনায় অর্ধেকেরও কমে এসেছে।
নদীর আরেক বড় সংকট দূষণ। পৌর এলাকার পয়োনিষ্কাশন লাইন ও বর্জ্য সরাসরি নদীতে পড়ছে। ফলে নদীর পানি কালচে ও দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে উঠেছে। অনেক জায়গায় পানি স্থির হয়ে পড়ে থাকায় মশা ও রোগবালাইয়ের ঝুঁকিও বাড়ছে।
স্থানীয় জেলে ও কৃষকরা বলছেন, নদীর ওপর নির্ভরশীল জীবিকা এখন প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। মাছ নেই, পানি নেই—নদী হারিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের আয়ের পথও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মাহিদুর রহমান সিফাত জানান, শ্রীমন্ত নদীর বর্তমান অবস্থা দেখে তিনি গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “এই নদী আমাদের জীবন ছিল। এখন দেখেন, সব দখল হয়ে গেছে। কেউ দেখার নেই।” তার মতে, দীর্ঘদিন ধরে নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় নদীটি আজ এ অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আলমগীর হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই নদী আমাদের জীবন ছিল। এখন দেখেন, সব দখল হয়ে গেছে। কেউ দেখার নেই।”
গৃহিণী রহিমা বেগম বলেন, “আমরা ছোটবেলায় এই নদীতে গোসল করতাম। এখন কাছে যাওয়া যায় না, এত নোংরা।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, নদীটির এই অবস্থার জন্য দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, দখলদারদের প্রভাব এবং কার্যকর মনিটরিংয়ের অভাব দায়ী। তারা সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে শ্রীমন্ত নদী মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে।
🔎 সংকটের মূল কারণ:
অবৈধ দখল ও অপরিকল্পিত স্থাপনা
অপরিশোধিত পয়োনিষ্কাশন ও বর্জ্য ফেলা
দীর্ঘদিন খনন কার্যক্রম বন্ধ থাকা
প্রশাসনিক নজরদারির ঘাটতি
⚠️ পুনরুদ্ধারে জরুরি করণীয়:
১. দখল উচ্ছেদ অভিযান
নদীর ভেতর ও তীরে গড়ে ওঠা সব অবৈধ স্থাপনা অপসারণ
২. সীমানা নির্ধারণ ও সংরক্ষণ:
নদীর প্রকৃত সীমানা নির্ধারণ করে স্থায়ী পিলার স্থাপন
৩. পরিকল্পিত ড্রেজিং:
নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে জরুরি ভিত্তিতে খনন
৪. দূষণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা:
পয়োনিষ্কাশন লাইনের বিকল্প ব্যবস্থা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন
৫. কঠোর আইন প্রয়োগ:
দখল ও দূষণের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান শাস্তি নিশ্চিত
৬. জনসম্পৃক্ততা ও সচেতনতা:
স্থানীয় জনগণকে নদী রক্ষায় সম্পৃক্ত করা
৭. দীর্ঘমেয়াদি মাস্টারপ্ল্যান:
সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ে টেকসই পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা।