
দিনাজপুর প্রতিনিধি : দিনাজপুর জেলার ১৩টি উপজেলায় ভুট্টা কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ চলছে। কৃষকরা বাম্পার ফলন ও ভালো দাম পাওয়ায় খুশি। অনেক মজুমদার ব্যবসায়ী কাঁচা ভুট্টা কিনে তাদের চাতালের শুকানের পর মজুত করে রাখছেন।
ভুট্টা ব্যবসায়ী শামসুজ্জামান মানিক জানান, প্রতিবছর শুকনা ভুট্টা মজুত করেন। মৌসুম শেষ হলে দুই থেকে তিন মাসের মধ্যেই প্রতি কেজি ভুট্টা ৮ থেকে ১০ টাকা বেশি দামে বিক্রি করতে পারেন।
তিনি বলেন, অনেক কৃষক তাদের উৎপাদিত ভুট্টা শুকিয়ে মজুত করে রাখেন। বাজারে চাহিদা ও দাম বাড়লে ভুট্টা বিক্রি করে তারা লাভবান হন। এভাবে ভুট্রা মজুত রেখে ব্যবসায়িক ও কৃষকরা উভয়ে প্রতিবছর লাভবান হচ্ছেন। ফলে প্রতিবছর এই জেলায় ভুট্রার চাষ বেড়েই চলছে। ভুট্টা একটি লাভজনক ফসল হওয়ায় কৃষকদের কাছে ভুট্টা চাষে আগ্রহ বাড়ছে।
কৃষি বিভাগের সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে জেলায় ৭৬ হাজার ২শ’ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। গত ৩১ মার্চ পর্যন্ত জেলায় ৭৮ হাজার ৯শ’ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় লক্ষ্যমাত্রার অতিরিক্ত ২ হাজার ৭শ’ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে।
ভুট্টা চাষী মনিরুল ইসলাম জানান, চাষিরা ভুট্টার অধিক ফলন পেতে কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী, প্রথমে ভুট্টা চাষের জমিতে ২০ কেজি পটাস, ২৫ কেজি ফসফেট, ১০ কেজি জিপ সার, ১ কেজি বরন, ১ কেজি দানাদার ও ১ কেজি সালফার মাটির সঙ্গে মিশিয়ে ভুট্টা চাষে জমি তৈরি করেন। পরে বিঘা প্রতি ৩ কেজি ভুট্টার বীজ রোপণ করেন। এক মাসের মাথায় আইল বেঁধে বিঘা প্রতি ২৫ কেজি ইউরিয়া, ২০ কেজি ড্যাপ এবং ২ কেজি থিওভিট ছিটিয়ে তারা ক্ষেতে পানি দেন। বীজ রোপণের পর কৃষকরা সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে ৯০ থেকে ১শ’ দিনের মধ্য ভুট্টা পেকে গেলে কাটা-মাড়াই করে থাকেন।
ভুট্টার বীজ রোপণ থেকে কাটা-মাড়াই পর্যন্ত এবারে বিঘা প্রতি কৃষকের খরচ হয় ১২ হাজার থেকে ১৪ হাজার টাকা। চলতি বছর ভুট্টা চাষের জন্য অনুকূল আবহাওয়া ও ভালো পরিবেশ থাকায় প্রতি বিঘায় ৪০ থেকে ৫০ মণ ভুট্টা উৎপাদন হয়েছে। চাষীদের ভুট্টার অধিক ফলন ও ভালো দামে ক্ষেত থেকেই কাঁচা ভুট্টা বিক্রি করতে পেরে এবারে কৃষকরা অনেক খুশি।
মঙ্গলবার দিনাজপুর কৃষি অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আফজাল হোসেন জানান, গত ১৫ দিন ধরে জেলার কৃষকরা কৃষি বিভাগের ভর্তুকি মূল্যে প্রদান করা হারভেস্টসহ আধুনিক ভুট্টা মাড়াই যন্ত্র ব্যবহারে স্বল্প সময়ের মধ্যে ভুট্টা মাড়াই কাজ সম্পন্ন করতে পারছেন।
তাপদাহ বেশি থাকায় মাড়াই করা ভুট্টা স্বল্প সময়ের মধ্যেই কৃষকরা শুকাতে পারছেন। আগামী মে মাসের মধ্যে জেলার উৎপাদিত ভুট্টা মাড়াই করে কৃষকরা ঘরে তুলতে পারবে বলে তিনি আশা করছেন।