
এস আলম গ্রুপের বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ উদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গ্রুপটির দেশে থাকা ৪ হাজার ২৬৪ কোটি টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ ইতোমধ্যে জব্দ করা হয়েছে।
পাশাপাশি গ্রুপটির ২ হাজার ৬৮০টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং ১৭১টি কোম্পানির বিপুল পরিমাণ শেয়ার ফ্রিজ (লেনদেন স্থগিত) করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্বে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানান। বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।
অর্থমন্ত্রী জানান, তদন্তকারী দলের তথ্যানুযায়ী দেশে এস আলম গ্রুপের ৪ হাজার ২৬৪ কোটি টাকা মূল্যের জমি, ফ্ল্যাট ও বাড়িসহ বিভিন্ন স্থাবর সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে গ্রুপটির নিয়ন্ত্রণাধীন ২ হাজার ৬৮০টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে, যেখানে জমা আছে প্রায় ৬ হাজার ৬৯২ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। পাশাপাশি গ্রুপটির ১৭১টি কোম্পানির নামে থাকা ২৪ হাজার ৮১০ কোটি ৮৮ লাখ টাকা মূল্যের শেয়ারও ফ্রিজ করা হয়েছে।
বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ উদ্ধারে ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ড, সাইপ্রাস, জার্সি ও সিঙ্গাপুর— এই চারটি দেশে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলএআর) পাঠানো হয়েছে।
ইতোমধ্যে বিদেশে থাকা গ্রুপের ১টি বাড়ি, ৬২টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং ৩ হাজার ২২২ কোটি ৭০ লাখ টাকা মূল্যের ১৪টি কোম্পানি ও ৬টি ট্রাস্ট ফান্ডের সম্পদ জব্দের বিষয়ে দেশের আদালতের রায় পাওয়া গিয়েছে বলে মন্ত্রী সংসদকে জানান।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও জানান, পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে এনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) অধীনে ‘স্টোলেন অ্যাসেট রিকভারি ডিভিশন’ গঠন করা হয়েছে। বর্তমানে স্বনামধন্য বিদেশি আইনি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদের অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে।