
বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: বঙ্গোপসাগরের উপকূলে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার শেখেরখীল ও গন্ডামারা সংলগ্ন মোহনায় ৫৮ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মৎস্য আহরণ করায় একটি নৌযান জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ অভিযান দল।
সোমবার (২০ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়, বাঁশখালী এবং বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, বিসিজি কন্টিনজেন্ট (পূর্ব জোন), বাঁশখালীর যৌথ উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান চলাকালে খাটখালী এস. আলম জেটি সংলগ্ন এলাকায় একটি ‘এফবি শহীদ’ নামের ৬ সিলিন্ডার বিশিষ্ট আর্টিসানাল নৌযানকে মাছ ধরার সময় হাতেনাতে জব্দ করা হয়। নৌযানটিতে থাকা ২৮ ড্রাম সামুদ্রিক মাছ, যার আনুমানিক ওজন ৯৮০ কেজি এবং মূল্য প্রায় ১ লাখ টাকা, জব্দ ও বাজেয়াপ্ত করা হয়।
নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সমুদ্রে মাছ ধরার অপরাধে নৌযানটির মালিককে ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা। পরে জব্দকৃত মাছ উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে একই পরিমাণ অর্থে বিক্রি করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. তৌসিব উদ্দিন। তিনি জানান, ‘সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ ও টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করতে সরকার নির্ধারিত ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। যারা এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, ‘সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মাছের উৎপাদন বজায় রাখতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে।’
উল্লেখ্য, ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন ২০২৬ পর্যন্ত মোট ৫৮ দিন সমুদ্রে সব ধরনের মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধ রয়েছে। এই সময়জুড়ে সচেতনতামূলক প্রচারণার পাশাপাশি অভিযান কার্যক্রমও অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।