
শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুরে বসতবাড়ীতে অগ্নিকাণ্ডে পোশাক শ্রমিকদের ১৮টি ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনে বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়াদের প্রায় ৮০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ১৮টি ঘরের সবগুলোতেই স্থানীয় বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা বসবাস করে।
শনিবার (৪ এপ্রিল) দিবাগত রাত ৮টার দিকে পৌরসভার গড়গড়িয়া মাস্টার বাড়ি এলাকার (ফখরুদ্দিন মোড়ে) আব্দুল কাদিরের মালিকানাধীন বসতবাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
বাড়ির মালিক আব্দুল কাদির বলেন, রাত সাড়ে ৮টার দিকে ভাড়াটিয়াদের একটি কক্ষ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই আগুন দ্রুত সারিবদ্ধ ঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে এবং নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। প্রায় এক ঘণ্টার আগুনে ভাড়াটিয়া বসতবাড়ীর সব জিনিসপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
স্থানীয়রা জানান, জামালপুরের ইসলামপুর এলাকার বাসিন্দা ফখরুদ্দিন টেক্সটাইল মিলসের ডেনিমেক গার্মেন্টসের পোশাক শ্রমিক নাসরিন-মানিক সরকার দম্পতির সব চেয়ে থেকে বেশি ক্ষতি হয়েছে। প্রতি মাসের তাদের বেতন থেকে সামান্য জমানো নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার এবং মূল্যবান জিনিপত্র পুড়ে প্রায় ৬ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নাসরিন কর্মরত।
চাঁদপুরের মতলব উপজেলার বাসিন্দা একই কারখানার শ্রমিক দম্পত্তি আসমা-আব্দুল জলিলের প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তাদের ঘরে থাকা আলমিরা, ওয়ারড্রপ, ড্রেসিংটেবিল, সুকেসসহ আসবাবপত্র ও মালামাল পুড়ে গেছে।
গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার বাসিন্দা রুনা আক্তার-সবুজ দম্পতি স্থানীয় আমান টেক্সটাইল কারখানায় চাকরি করেন। অগ্নিকান্ডের সময় তারা কারখানায় কাজ করছিলেন। খবর পেয়ে এসে দেখেন তাদের ঘরের সব মালামল পুড়ে গেছে। এতে তাদে দেড় লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। একই কারখানার অপর শ্রমিক বেদেনা আক্তার বলেন আগুনে তারও প্রায় দুই লাখ টাকার মালামাল ভস্মীভূত হয়েছে।
এদিকে, অগ্নিকান্ডের খবর পেয়ে গাজীপুর জেলা কৃষক দলের আহবায়ক এস এম আবুল কালাম আজাদ রবিবার (৫ এপ্রিল) সকাল ১০টায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্থ বাড়ীর মালিক ও ভাড়াটিয়াদের সাথে কথা বলেন। তিনি অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থদের পাশে থাকার কথা বলেন এবং সান্তনা দেন। দীর্ঘ সময় ধরে জ্বলতে থাকা আগুনে ক্ষতিগ্রস্থদের ঘরে থাকা বিভিন্ন আসবাবপত্রসহ মূল্যবান কাপড় পুড়ে গেছে। পোশাক শ্রমিকদের কষ্টের জমানো টাকা ও স্বপ্ন আগুনের শেষ হয়ে গেল। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে থেকে সরকারি বা বেসরকারি সাহায্যের অপেক্ষায় রয়েছেন।
মাওনা ফায়ার সার্ভিসের ইন্সপেক্টর নুরুল করিম জানান, তারা রাত সাড়ে ৮টার দিকে বসতবাড়ীতে আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিটের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে আগুন নিয়ন্ত্রনে কাজ শুরু করে। প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে মোমবাতি থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ তদন্তের পর বলা সম্ভব হবে।