
মাদারীপুর প্রতিনিধি : মাদারীপুরে হামে আক্রান্ত হয়ে আদিবা নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং শিশু হাসপাতালে ১১ জন শিশু রোগীর চিকিৎসা চলছে। এ ঘটনায় জেলার অভিভাবকদের মধ্যে বেড়েছে আতঙ্ক।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকালে ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতাল সুত্রে জানা যায়, গত ৭ দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি হয় ১৪ শিশু। এরমধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয় আরও দুই শিশু। বর্তমানে ১১ শিশুকে রাখা হয়েছে হাসপাতালের হোম আইসোলেশন সেন্টারে।
এর আগে গত ২২ মার্চ রাতে সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের মধ্যচর এলাকার আব্দুর রহমানের তিন মাস ১৫ দিন বয়সি মেয়ে আদিবাকে ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের ভর্তি করা হয়। পরে গত ৩০ মার্চ রাতে শিশুটির মৃত্যু হয়। এর পর থেকে অভিভাবকদের মধ্যে বেড়েছে আতঙ্ক। এর মধ্যে মাদারীপুর সদর উপজেলায় হাম রোগীর সংখ্যা-১১, কালকিনি-৩ ও শিবচর উপজেলায়-১জন শিশু রোগী চিকিৎসা গ্রহন করছেন। এর মধ্যে কালকিনি উপজেলার ৩জন রোগী চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
সদর দুখধালী ইউনিয়নের বোয়ালি এলাকার মোস্তাকিন বিল্লাল বলেন, ‘ছেলেকে নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় আছি। যেভাবে চারপাশে হামের রোগী বাড়ছে তাতে এখন আমাদের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। আমরা সরকারের সহযোগিতা চাই। যাতে এই রোগ থেকে শিশুরা দ্রুত মুক্তি পেতে পারে।
’ সদর উপজেলার হাউসদি এলাকার শিশু নাবিলার মা ফাতেমা আক্তার বলেন, ‘আমার মেয়ে হাসপাতালে ভর্তি ৫ দিন ধরে। কিছুতেই হাম কমছে না। এমন পরিস্থিতিতে খুব অসহায় মনে হচ্ছে।’
মাদারীপুর সিভিল সার্জন অফিসের পরিসংখ্যানবিদ মীর রিয়াজ আহমেদ জানান, মাদারীপুর জেলায় এখন পর্যন্ত ১৫ জন হামের রোগী চিকিৎসা গ্রহন করেছে। আমরা প্রতিনিয়ত হাম সংক্রান্ত আপডেট দিচ্ছি।
মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. জহিরুল ইসলাম খান বলেন, ‘হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। সবার আগে সচেতন হওয়া জরুরি। হামের উপসর্গ দেখা দিলেই হাসপাতালে ছুটে আসতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।’
মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. অখিল সরকার বলেন, ‘এটি ছোঁয়াচে রোগ হওয়ায় হাসপাতালে হাম রোগীদের জন্য আলাদা ইউনিট খোলা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।’