
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় পরিবারের পক্ষ থেকে জোরপূর্বক বিবাহ দেওয়ার চাপে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে দশম শ্রেণির এক ছাত্রী। নিহত শিক্ষার্থীর নাম তন্দ্রা দাস (১৫)। সে জয়পাশা সৈয়দ ফজলুল হক একাডেমীর দশম শ্রেণির ছাত্রী এবং উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের পরমেশ্বরদী দত্তপাড়া গ্রামের তাপস দত্তের মেয়ে।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে নিজ ঘরের ভেতরে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যরা। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি তন্দ্রা দাসকে পরিবারের পক্ষ থেকে জোরপূর্বক বিয়ের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। এ নিয়ে সে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, ওই চাপ ও অভিমানের জের ধরেই সে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।
বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতাল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। যেহেতু এটি আত্মহত্যার ঘটনা, তাই লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি ইউডি মামলা দায়ের করা হয়েছে।”
এদিকে, তন্দ্রা দাসের অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
শিক্ষক ও সচেতন মহল বলছেন, অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীদের ওপর জোরপূর্বক বিবাহের চাপ সমাজের জন্য একটি ভয়াবহ বার্তা বহন করছে, যা রোধে পরিবার ও সমাজকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।