
মতিন রহমান, বকশীগঞ্জ (জামালপুর): জামালপুরের বকশীগঞ্জে এক বৃদ্ধাকে ‘স্বর্ণের বার’ পাওয়ার লোভ দেখিয়ে তাঁর সঙ্গে থাকা প্রায় লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণের কানফুল হাতিয়ে নিয়েছে একটি প্রতারক চক্র।
শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বকশীগঞ্জ পৌর শহরের কুড়েঘর রেস্টুরেন্টের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী নারীর নাম আজবাসী বেগম (৬০)। তিনি দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার উত্তর রহিমপুর এলাকার আব্দুল কুদ্দুসের স্ত্রী।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজবাসী বেগম আজ সকালে বকশীগঞ্জ পৌর শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড বটতলা মোড় থেকে দেওয়ানগঞ্জে নিজের বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে একটি অটোরিকশায় ওঠেন। এ সময় যাত্রীবেশে দুই যুবকও তাঁর সঙ্গে ওই অটোরিকশায় চড়েন। অটোরিকশাটি হাইওয়ে থানার পাশে কুড়েঘর রেস্টুরেন্টের সামনে পৌঁছালে এক যুবক কৌশলে গাড়ি থামাতে বলেন।
গাড়ি থেকে নেমে ওই যুবক রাস্তা থেকে ১০ টাকার নোটে মোড়ানো একটি বস্তু তুলে আনেন। অটোরিকশায় উঠে তিনি বৃদ্ধাকে দেখান যে, নোটের ভেতরে একটি সাদা কাগজে মোড়ানো একটি স্বর্ণের বার রয়েছে। কাগজের ওপর লেখা ছিল যে এটি একটি দামি স্বর্ণের বার যা হারিয়ে গেছে।
প্রতারক যুবকরা তখন আজবাসী বেগমকে বলেন, তারা গরিব মানুষ, এই স্বর্ণের বারটি বিক্রি করতে পারবেন না। তাই বারটি তিনি (আজবাসী) রেখে দিয়ে বিনিময়ে তাদের কিছু টাকা দিলে তাদের উপকার হয়। আজবাসী বেগম নিজের কাছে টাকা নেই বলে জানালে, যুবকরা তাকে প্রলোভন দেখিয়ে বলেন টাকা নেই তো কী হয়েছে, কানের দুল জোড়া দিয়ে এই স্বর্ণের বারটি আপনি রেখে দেন। সরল বিশ্বাসে ওই নারী তাঁর কানের প্রায় এক লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণের দুল জোড়া খুলে যুবকদের দিয়ে দেন এবং নকল স্বর্ণের বারটি গ্রহণ করেন। অলংকার হাতিয়ে নেওয়ার পরপরই দুই যুবক দ্রুত সেখান থেকে সটকে পড়েন। পরে যাচাই করে আজবাসী বেগম বুঝতে পারেন যে তাকে দেওয়া ‘স্বর্ণের বার’টি আসলে একটি ভুয়া বা নকল বস্তু।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মকবুল হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে ধারণা করা হচ্ছে, ওই নারী কোনো সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়েছেন। এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।