
শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার উচ্চ শিক্ষার একমাত্র প্রতিষ্ঠান শ্রীপুর সরকারি কলেজ। শতাব্দীকাল পেরিয়ে গেলেও উপজেলার প্রাচীন এ কলেজটির ছাত্রাবাস চালু নেই। গত প্রায় ১ যুগের বেশি সময় ধরে ছাত্রাবাসের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
ফলে স্বাভাবিক শিক্ষার প্রসার ঘটাতে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এখন প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে ছাত্রীনিবাসেরও। উচ্চ শিক্ষায় এটি একটি অন্যতম বাধা বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বিভিন্ন কমিউনিটির প্রতিনিধিরা। তাদের দাবী অচিরেই কলেজটির ছাত্রাবাস চালুর ব্যবস্থা করে উচ্চ শিক্ষার পথ সমৃদ্ধ করা সময়ের দাবী।
কলেজের একাধিক সুত্র, ২০১০ সাল থেকে কলেজটিতে তিনটি বিষয়ে অনার্স কোর্স নিয়মিত চালু হয়। ২০১৫ সালের মধ্যে তা উন্নীত হয়ে মোট ১০টি বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু হয়। অনার্স চালুর কয়েক বছর টিন শেডের একমাত্র ছাত্রাবাসটি চালু ছিল। পরে জরাজীর্ণ অবকাঠামোর কারণে এর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। কলেজটিতে প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে।
কলেজের অনার্স শিক্ষার্থী ইমন হাসান, আসিফ হোসেন, নিঝুম সুলতানাসহ তাদের সহপাঠীরা জানান, অনেকেই দূর থেকে বিশেষ করে গাজীপুরের বাইরের জেলাগুলো থেকে এসে কলেজটিতে পড়াশোনা করেন। কিন্তু দূরবর্তী হওয়ায় তাদের পক্ষে নিয়মিত শ্রেণীপাঠ গ্রহণ করা সম্ভব হয় না। ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত শ্রীপুর সরকারি কলেজ ঢাকার নিকটবর্তী উত্তরাঞ্চলের মানুষের গর্বের একটি প্রতিষ্ঠান।
কলেজ শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি নাঈম জানান, পুরনো এ কলেজ থেকে দেশ বিদেশের উচ্চ পর্যায়ে অনেকেই অধিষ্ঠিত। অনেক শিক্ষার্থী এখানে পড়াশোনা করে তাদের জীবনমান উন্নীত করেছেন। যারা পাঠ গ্রহণ করছে তারাও ভবিষ্যতে দেশ ও দশের নেতৃত্ব দিবে। শিক্ষার্থীদের জন্য ছাত্রাবাস জরুরী। তবে বহুতল বিশিষ্ট একটি ছাত্রীনিবাস একতলা ছাদ পর্যন্ত নির্মিত হয়ে অনেকদিন যাবত বন্ধ রয়েছে। বর্তমান সময়ে কলেজটিতে ছাত্র ও ছাত্রীনিবাসের বেশি প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।
কলেজের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, কলেজটিতে ৪টি বিষয়ে অনার্স ছাড়াও তিনটি বিষয়ে মাস্টার্স কোর্স চালু রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ব্যবস্থাপনা, সমাজকর্ম ও হিসাববিজ্ঞান। প্রিলিমিনারী মাস্টার্স রয়েছে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের। মাস্টার্সের ওইসব বিভাগগুলোতে অনার্সের পাশাপাশি অন্য যেসব বিভাগে অনার্স রয়েছে সেগুলো হলো বাংলা, ইসলামের ইতিহাস ও সংষ্কৃতি, মার্কেটিং, গণিত, ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান এবং সমাজকর্ম। উচ্চ শিক্ষার এসব বিভাগগুলো কলেজের একটি বড় আয়ের উৎস।
শ্রীপুর উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক ও কলেজের সাবেক ভিপি আব্দুল মোতালেব বলেন, গত প্রায় ২০ বছর যাবত কলেজটির ছাত্রাবাস চালু নেই। উপজেলার একমাত্র কলেজ হিসেবে এটি ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠা পায়। এটি আশপাশের কয়েকটি উপজেলার মধ্যে একমাত্র ডিগ্রী কলেজ ছিল। উপজেলাগুলোর প্রত্যন্ত এলাকা থেকে যাতায়াত অসুবিধার কারণে ছাত্রাবাস নির্মাণের প্রয়োজন পড়ে। অবশেষে স্থানীয় এবং কলেজ প্রশাসনের উদ্যোগে ছাত্রাবাস গড়ে তোলা হয়। কিন্তু সংষ্কার উদ্যোগের অভাবে তা ভেস্তে যায়। সমসাময়িক শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনের কথা চিন্তা করে এবং একটি পুরনো একমাত্র উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হওয়ায় ছাত্রাবাস চালুর বিষয়টি জরুরী হয়ে পড়েছে।
শ্রীপুর সরকারি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান সহকারী অধ্যাপক আবু বকর সিদ্দিক আকন্দ বলেন, কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় অধ্যক্ষ প্রফেসর লুৎফর রহমানের উপস্থিতিতে প্রয়োজনীয় নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এসবের মধ্যে ছাত্র ও ছাত্রী নিবাসের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। শিক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখে এ বিষয়টি যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গেও দেখছে কলেজ প্রশাসন।