
মোরেলগঞ্জ প্রতিনিধি: বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জের লামিয়া আক্তার মাইশা,জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী মাইশা অংশ নিয়েছে এবারের ৫ম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষায়।
উপজেলার ১০৭ নং বারইখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরীক্ষাকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় মাইসার একদিকে কলম চলছে,অন্যদিকে সারা শরীর কাপছে। কেন্দ্রে অন্য পরীক্ষার্থীদের মতোই স্বাভাবিকভাবে লিখেছে সে।কিন্তুু বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি শরীরের অসম্পূর্ণতা।
মাইশার মা মহিমা বেগম অশ্রুসিক্ত নয়নে বলছিলেন মাইশা জন্ম থেকে প্রতিবন্ধী,ও অনেক ভালো ছাত্রী,সে বড় হয়ে সরকারি চাকরি করতে চায়,স্কুলের সব শিক্ষকরা ওকে অনেক আদর করে,মা হিসেবে আমি অনেক কস্ট করি ওর জন্য,আমি মারা যাওয়ার পরে কি করে খাবে সে জন্য এতো কিছু ও যেন কিছু করে খেতে পারে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী পিতা রিয়াজ খলিফা ও মাহিমা বেগম দম্পতির মেয়ে মাইশা। দুই বোনের মধ্যে ছোট মাইশাকে কোন বাধা আটকাতে পারে নি।
পরীক্ষা শেষে মাইশা জানায় ‘অন্যদের মতো লিখতে না পারায় কষ্ট হয় তার। তবুও সে তার সাধ্যমতো চেষ্টা করে খাতায় লিখেছে। কারও বোঝা হয়ে না থেকে সে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়।দুই হাতের কনুই এর সাহায্যে অংশগ্রহণ করছে বৃত্তি পরীক্ষায়। জন্মগতভাবেই প্রতিবন্ধী এই শিশু শিক্ষার্থী মাইশা বড় হয়ে সরকারি চাকরি করতে চায়।
সাবেক প্রধান শিক্ষক হোসনে আরা হাসি জানালেন -মাইশার অনেক প্রতিভা,বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশু মাইসা স্বাভাবিকভাবে বড় হতে চায়,ওর চোখে অনেক স্বপ্ন,মাইসা সমাজের বোঝা নয় সম্পদ,ওর মনের আশা পুরন হবে,মাইশার অদম্য প্রতিভা জানবেন বাংলাদেশ।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেহেনা রিয়া বলেন, মাইশা আমার বিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী,আমি সহ স্কুলের অন্য শিক্ষকরা সব ক্ষেত্রে সহায়তা করে,আশা করছি মাইশা বৃত্তি পাবে,ও একা হাটতে পারে না,কথা বলার সময় মুখ বেকে যায়। প্রতিবন্ধী হলেওে মাইশার ইচ্ছাশক্তি অনেক বেশি। স্কুলের তার সহপাঠীরাই তাকে সহযোগিতা করে। মাইশা আরও এগিয়ে এগিয়ে যেতে চায়। বড় হয়ে সরকারি চাকরি করতে চায়।