
খন্দকার নজরুল ইসলাম : আগামী পাঁচ বছরে (২০২৬–২০৩১) ইউরোপের শ্রমবাজারে ১০ লাখ দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর লক্ষ্যে একটি উচ্চাভিলাষী রোডম্যাপ উপস্থাপন করা হয়েছে ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ সেমিনারে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল ২০২৬) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এই সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
সেমিনারের মূল প্রতিপাদ্য ছিল—“সংকট থেকে সম্ভাবনায়: ইউরোপীয় শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালীকরণ”। এতে উপস্থাপনায় দেখানো হয়, বর্তমানে ইউরোপজুড়ে প্রায় ১ কোটি দক্ষ শ্রমিকের ঘাটতি থাকলেও নানা সীমাবদ্ধতার কারণে বাংলাদেশ সেই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারছে না।
বক্তারা বলেন, অতীতে অনিয়মিত অভিবাসন, ভিসার অপব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক নিয়ম লঙ্ঘনের কারণে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে ইউরোপের অনেক দেশ বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজন সুশাসন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণ।
সেমিনারে একটি ‘মাস্টার প্ল্যান’ তুলে ধরা হয়, যেখানে উল্লেখ করা হয়—
আইটি, হেলথকেয়ার, নির্মাণ, কৃষি ও হসপিটালিটি খাতে ১০ লাখ কর্মী পাঠানোর লক্ষ্য প্রি-ডিপারচার ট্রেনিং বাধ্যতামূলক করা স্মার্ট ডাটাবেজ ও রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং সিস্টেম চালু ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে জি-টু-জি চুক্তি জোরদার করা হয়েছে।
এছাড়া প্রবাসীদের অধিকার নিশ্চিত করতে সংসদে সংরক্ষিত আসন, অনলাইন ভোটিং ব্যবস্থা এবং ‘প্রবাসী স্মার্ট কার্ড’ চালুর প্রস্তাবও উপস্থাপন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, “বাংলাদেশের জনশক্তি আমাদের বড় সম্পদ। সঠিক পরিকল্পনা, দক্ষতা ও নীতি সহায়তার মাধ্যমে এই খাতকে অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব।”
তিনি আরও বলেন, সরকার দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের উদ্যোগকে সর্বাত্মক সহায়তা দেওয়া হবে।
সেমিনারে দেশ-বিদেশের অভিবাসন বিশেষজ্ঞ, প্রবাসী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং নীতিনির্ধারকরা অংশ নেন। আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, প্রস্তাবিত পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।