বাংলাদেশ

জাতীয় অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে উঠছে এসএমই খাত

  প্রতিনিধি ১ নভেম্বর ২০২৫ , ২:৪২:৫৫ প্রিন্ট সংস্করণ

জাতীয় অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে উঠছে এসএমই খাত

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতকে জাতীয় অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত করতে একের পর এক বৈঠক করছে বিনিয়োগ সমন্বয় কমিটি। ইতিমধ্যে চার দফা বৈঠকে নেওয়া হয়েছে নানামুখী সংস্কার ও বাস্তবায়নমূলক সিদ্ধান্ত।

এই বৈঠকগুলোতে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি ও প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানসহ সরকারি ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা। আলোচনায় মূল গুরুত্ব দেওয়া হয় উদ্যোক্তাদের সরাসরি অংশগ্রহণের মাধ্যমে এসএমই খাতকে নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় আরও অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং শনিবার জানায়, এসব বৈঠকে ইতিমধ্যে কিছু সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পথে রয়েছে।

বাস্তবায়িত ও চলমান উদ্যোগগুলো

  • বৈদেশিক অর্ডারের অর্থের ১০% বাধ্যতামূলকভাবে ব্যাংকে জমা রাখার নিয়ম বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
  • এসএমই উদ্যোক্তাদের জন্য বছরে ন্যূনতম তিন হাজার মার্কিন ডলারের বৈদেশিক মুদ্রা কোটা বরাদ্দের প্রস্তাব বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে।
  • উদ্যোক্তাবান্ধব নতুন আর্থিক পণ্য নকশার জন্য ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ফাউন্ডেশন কর্মশালা আয়োজন করছে।
  • ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প মাস্টার সার্কুলারের কার্যকারিতা মূল্যায়নের কাজ শুরু হয়েছে।
  • বাণিজ্য লাইসেন্স ছাড়াই পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে।
  • গ্রাহক পর্যায়ে সুদের হার যৌক্তিক করার বিষয়ে পুনর্বিবেচনা চলছে।

এর আগে ২৮ আগস্ট ও ২১ সেপ্টেম্বরের বৈঠকগুলোতে এসএমই উদ্যোক্তাদের অভিজ্ঞতা, চ্যালেঞ্জ এবং প্রস্তাব শোনার পর বেশ কিছু নীতি সংশোধনের সুপারিশ পাঠানো হয় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে। ৮ অক্টোবর অনলাইনে আয়োজিত সভায় দেশের বিভিন্ন জেলার উদ্যোক্তারা অংশ নেন।

গৃহীত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তসমূহ

  • নমুনা ছাড়প্রক্রিয়া সহজীকরণে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নজরদারি বাড়ানো।
  • ডিজিটাল মানিব্যাগের মাধ্যমে অর্থপ্রাপ্তিতে আইটি খাতের মতো সুবিধা দিতে নীতিমালা সংশোধনের উদ্যোগ।
  • অনলাইন বিক্রির অর্থ দ্রুত উদ্যোক্তার হিসাবে জমা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা।
  • অনলাইন রপ্তানিতে বি-টু-বি ও বি-টু-সি মডেল অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ।
  • এসএমই নীতিমালা প্রচারে সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ।
  • ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ বৈদেশিক মুদ্রা কার্ড চালুর প্রস্তাব।
  • আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের জন্য এসএমই খাত নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পরিকল্পনা।
  • রপ্তানি বৃদ্ধিতে বিদেশি দূতাবাসগুলোর সঙ্গে সমন্বয় জোরদার।
  • কৃষি ও জৈব পণ্যের সনদ সমস্যা সমাধানে বিইপিবি ও এসএমই ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগ।
  • ব্যাংক গ্যারান্টি ছাড়া অগ্রিম অর্থপ্রদানের সীমা ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার ডলার করা হয়েছে।
  • স্থানীয় বীমা কভারেজসহ উন্মুক্ত হিসাবের মাধ্যমে রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে এইচএস কোডের প্রথম চার অঙ্ক মিললেই মূল্যায়ন সম্পন্ন করা যাবে—যা ব্যবসার প্রক্রিয়া আরও সহজ করবে।

বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী বলেন,  “এই সংস্কারের লক্ষ্য অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করা। এসএমই খাতের উদ্যোক্তারা আমাদের অর্থনীতির মেরুদণ্ড, তবে তাদের কণ্ঠ বড় ব্যবসায়ীদের মতো জোরালোভাবে শোনা যায় না। তাই অর্থায়ন থেকে সরবরাহব্যবস্থা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে তাদের জন্য ব্যবসার পরিবেশ সহজ করতে হবে। সরকারকে হতে হবে তাদের সহায়ক, বাধা নয়।”

আরও খবর

Sponsered content