
নালিতাবাড়ী (শেরপুর) প্রতিনিধি : শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় ভূমি সেবায় ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে শোকজ করা হলেও নয়াবিল–রামচন্দ্রকুড়া ইউনিয়নের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (নায়েব) সেলিনা পারভীন নিয়মিতভাবে অফিস করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বেড়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগে গত ১ ফেব্রুয়ারি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে শোকজ করা হয়। তবে শোকজের পরও তার দাপ্তরিক কার্যক্রমে কোনো দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখা যায়নি। তিনি পূর্বের মতোই অফিসে উপস্থিত থেকে ভূমি সংক্রান্ত কাজ করছেন বলে দাবি করেছেন এলাকাবাসী।
এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতীতের ঘুষ গ্রহনের ভাইরাল হওয়া ভিডিও নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, ভূমি সংক্রান্ত একটি কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার আশ্বাস দিয়ে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৯ হাজার টাকা গ্রহণ করে তা নিজের ব্যাগে রেখে দেন তিনি। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, “এখানে যা আছে সব খারিজ হবে, কোনো কথা নাই—তুই শুধু টাকা পাঠাবি।”
ভিডিওটি ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। অনেকেই ঘটনাটিকে প্রশাসনিক দুর্নীতির স্পষ্ট প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করছেন।
অভিযোগ রয়েছে, নামজারি ও খারিজসহ বিভিন্ন ভূমি সেবা পেতে দীর্ঘদিন ধরেই অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছিল। তবে সরাসরি লেনদেনের ভিডিও প্রকাশ পাওয়ায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নয়াবিল গ্রামের এক ভুক্তভোগী জানান, ২০ শতাংশ জমির নামজারি ও খারিজের জন্য তার কাছে ৮ হাজার টাকা দাবি করা হয়, যেখানে সরকারি নির্ধারিত ফি ১১৭০ টাকা। অতিরিক্ত অর্থের বিষয়ে প্রশ্ন তুললে তাকে বলা হয়, “শুধু সরকারি ফি দিলে কাজ হয় না, উপরের খরচ আছে।” এমনকি অনেকেই ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা অগ্রিম দিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আনিসুর রহমান বলেন, বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে এবং ভিডিওর সত্যতা যাচাই করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সাম্প্রতিক অভিযোগ ও শোকজ-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও পরবর্তীতে তার সাড়া পাওয়া যায়নি।
এদিকে সচেতন মহলের মতে, শোকজের পরও অভিযুক্ত কর্মকর্তার নিয়মিত অফিস করা জনমনে বিভ্রান্তি ও আস্থাহীনতা সৃষ্টি করছে। দ্রুত ও দৃশ্যমান প্রশাসনিক পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।