
সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি: নাটোরের সিংড়া উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার ভেজাল খেজুর গুড়ে সয়লাব। চিনি আর বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থের সংমিশ্রণে এসব খেজুর গুড় তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
খেজুর গুড়ে রঙ, হাইড্রোজ, সোডা, ফিটকারির মতো ভেজাল মিশ্রণ করলে খাদ্যনালিতে ক্যানসার, কিডনি ড্যামেজ, লিভারের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে বলে স্বাস্থ্য সুরক্ষার দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্টদের অভিমত।
জানা যায়, গুড় প্রস্তুতকারকরা বাড়তি লাভের আশায় এবং শীত মৌসুমে চাহিদা বেশি থাকায় চিনির সঙ্গে কেমিক্যাল মিশিয়ে খেজুর গুড় তৈরি করছেন। কেমিক্যালের পাশাপাশি এসব গুড়ে চিনি ও ঝোলা গুড়ের সংমিশ্রণও থাকে।
উপজেলার অধিকাংশ হাটবাজারেই এসব গুড় দেদারসে বিক্রি করা হচ্ছে। অসাধু গুড় ব্যবসায়ীরা বাজার থেকে কমদামে নিম্নমানের ঝোলা ও নরম গুড় কিনে তাতে চিনি, রঙ, হাইড্রোজ, সোডা, ফিটকারি মিশিয়ে গুড় তৈরি করছেন।
সিংড়া পৌরসভার সাপ্তাহিক হাট, সিংড়া বাজার, কলম বাজার, বিলদহর বাজার, কুসুম্বী কালীগঞ্জ বাজার, হাতিয়ান্দহ বাজারে সবচেয়ে বেশি গুড় বিক্রি হতে দেখা যায়।
উপজেলার কলম, চামারী, হাতিয়ান্দহ, শেরকোল, লালোর ও ছাতারদিঘী ইউনিয়নে গুড় উৎপাদন হয় বেশি। এসব গুড় তৈরিতে ভেজাল মেশানোর সুযোগও বেশি।
স্থানীয়রা জানান, এ অঞ্চলে খেজুর গুড়ের সেই ঐতিহ্য আর নেই। গুড় উৎপাদনকারীরা ভেজাল গুড় তৈরি করছেন। ক্ষতিকারক রাসায়নিক পদার্থ মিশিয়ে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার চেষ্টা করছেন।
এলাকাবাসী জানান, এসব ভেজাল খেজুর গুড় স্থানীয় বাজারসহ দেশের বিভিন্ন হাট বাজারে বাজারজাত করা হয়।
সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সময়ে ভেজাল গুড় একটি জাতীয় সমস্যা। খেজুর গুড়ে চিনি, রঙ, হাইড্রোজ, সোডা, ফিটকারির মতো ভেজাল মিশ্রণ করার কারণে পাকস্থলী ও কিডনির দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই তিনি ভেজাল গুড় না কেনার জন্য ক্রেতাদের আহ্বান জানিয়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল রিফাত বলেন, খেজুর গুড়ে ভেজাল প্রতিরোধে শিগগিরই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মতো আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।