
পিরোজপুর প্রতিনিধি : পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি উপজেলায় চুরির অপবাদ সইতে না পেরে আব্দুল্লাহ আল মামুন সবুজ (৩০) নামের এক যুবকের বিষপানে আত্মহত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার সুটিয়াকাঠি ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ডের বালিহারি গ্রামে। নিহত যুবক সবুজ বালিহারি গ্রামের হুমায়ুন কবিরের ছেলে।
তিনি পেশায় একজন ব্যাটারী চালিত অটোরিকশা চালক। সোমবার রাতে সবুজ বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। মঙ্গলবার সেখানেই নিহত সবুজের লাশের ময়না তদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। এর আগেরদিন রবিবার সন্ধ্যায় সে বিষপান করে।
নিহতের মা শাহিদা বেগম অভিযোগ করে বলেন, গত ১ মার্চ সকালে তাদের গ্রাম চৌকিদার মো. হানিফ সহ স্থানীয় দোকানদার রুবেল ও আব্দুল হাই তার ছেলে সুবজকে বাড়ি থেকে ডেকে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যায়।
সেখানে নিয়ে তারা সবুজকে দুটি দোকান থেকে সিগারেট ও টাকা চুরির অপবাদ দেয়। সবুজ তার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ অস্বীকার করলে তারা সবুজকে শারিরকভাবে নির্যাতন করে। এক পর্যায়ে তারা সবুজকে ত্রিশ হাজার টাকা জরিমানা করে এবং চুরির লিখিত স্বীকারোক্তিতে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেয়। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন পরিষদে গিয়ে সেখানে উপস্থিত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. রাজিবুল হক শানুর কাছে বাধ্য হয়ে শাস্তি মেনে সবুজকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। বাড়িতে এসে সবুজ সেই লজ্জা সইতে না পেরে সন্ধ্যায় বিষপান করে।
নিহত সবুজের স্ত্রী সুমি বেগম বলেন, আমার স্বামি একজন অটো রিকশাচালক। সে আমার সামনে তার একমাত্র শিশু সন্তানের মাথায় হাত রেখে বলেছেন তাকে মিথ্যা চুরির অপবাদ দেয়া হয়েছে। আমার স্বামি অপমানে বিষপান করে আত্মহত্যা করেছে। যাদের কারনে আমি বিধবা হয়েছি এবং আমার সন্তান এতিম হয়েছে আমি তাদের শাস্তি চাই।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত চৌকিদার মো. হানিফ বলেন, সবুজ স্থানীয় দুটি দোকানে চুরি করেছে। পরিষদে বহু লোকের সামনে সে তার চুরির কথা স্বীকার করেছে। সেখানে তাকে কোন ধরনের মারধর করা হয়নি বলে তিনি দাবী করেন।
বিষয়টি নিয়ে ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রাজিবুল হকও চৌকিদারের মত একই কথা বলেন তবে তিনি উপস্থিত লোকজন সবুজকে কিছু কিল-ঘুষি মেরেছেন বলে তিনি জানান।
এ বিষয়ে নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, প্রাথমিকভাবে চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে সবুজ নামের এক যুবক বিষপানের আত্মহত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।