
কুড়িগ্রামের উলিপুরে কালবৈশাখী ঝড়ে নেই ক্ষতির শঙ্কা। নিশ্চিন্তায় বোরো ধান ঘরে উঠাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন বোরো চাষিরা। বোরোধান কাটা মাড়াই প্রায় শেষের পথে। পাকা ধান কেটে বাড়িতে নেওয়া, মাড়াই এবং সেদ্ধ করে তা রৌদ্রে শুকিয়ে গোলায় তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। তবে চাষিরা অনেক খুশি বোরোধান ঘরে তুলতে পেয়ে। এছাড়াও প্রখর রৌদ্রে বোরোধানের খড় শুকিয়ে তা ঘরে নেয়া হচ্ছে নিশ্চিন্তায়। তবে কালবৈশাখীর তান্ডব না হওয়ার শংকা চাষিদের। তীব্র তাপদাহে বোরোধান ও খড় শুকিয়ে ঘরে নিতে পেয়ে অনেক খুশি তারা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় ১টি পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়নে চলতি মৌসুমে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিলো ২২ হাজার ৫শত ৪০ হেক্টর। যা অর্জিত হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৩ হাজার ৪শত ৩ মেট্রিকটন। এবারে বোরোর ফলন অনেক ভালো হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি অর্জনের আশা করছেন তারা। বৈশাখ মাস প্রকৃতিক দূর্যোগের সম্ভাবনা রয়েছে । সে কারণে যে সকল জমিতে ধান প্রায় পেকে গেছে সে সকল জমি থেকে ধান কেটে ঘরে আনার জন্য উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মাঠ পর্যায়ে ঘুরে দেখা যায়, মাঠে মাঠে চলছে বোরো ধান কাটার উৎসব। কেউ ধান কাটছেন কেউ ধান ঝেড়ে খড়ের মুঠি আলাদা করে স্তূপ করে রাখছেন। কেউ কেউ মাথায় ও ভার সেজে বাড়ি নিয়ে ফিরছেন। অনেকেই আবার জমির মাঝে খোলা তৈরি করে ধান মাড়াই ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কৃষকেরা জানান, এবারে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে এবারে কারবৈশাখী ঝড়ে ক্ষতির সম্ভাবনা নেই বলে জানান তারা। এতে করে অনেক কৃষক চিন্তা মুক্ত রয়েছে। এদিকে শ্রমিক সংকট দেখা দিলেও বেশি দামে শ্রমিক দিয়ে বোরোধানের কাটা মাড়াইয়ের কাজ চালিয়ে নিচ্ছেন তারা।
উপজেলার গুনাইগাছ ইউনিয়নের কাঁঠালবাড়ি এলাকার বোরোচাষি সুশান্ত কুমার জানান, তিনি প্রায় ৬বিঘা জমিতে বোরো ধান রোপন করেছেন। তার বিঘা প্রতি খরচ হয়েছে ১২ হাজার থেকে ১৩হাজার টাকা। তার মোট খরচ হয়েছে ৭২ হাজার থেকে ৭৫ হাজার টাকা। ধান কাটা প্রায় শেষের পথে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবারে ধানের ফলন অনেক ভালো হয়েছে। এবারে কালবৈশাখীর ক্ষতির সম্ভাবনা কম রয়েছে। শ্রমিকের মজুরি, বীজ, সার, তেল, সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর মূল্য বেশি থাকায় বোরো চাষে অনেক ব্যয় হয়েছে। ধানের দাম চাহিদা অনুযায়ী না থাকলে এবারে লোকসানে পড়ে যাবেন বলে জানান তিনি।
এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বোরো চাষি রমজান আলী, জামাল উদ্দীন, কাজল মিয়া ও শহিদুল ইসলাম সহ আরও অনেকে জানান, এবারে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বোরোর ফলন অনেক ভালো হয়েছে। এবারে প্রাকৃতিক দূর্যোগের সম্ভাবনা তেমন নেই বলে আমরা আশা করছি। আবহাওয়া অনুকুল থাকায় বোরোধান ও খড় শুকিয়ে ঘরে তুলতে পেরেছি বিধায় অনেক খুশি আমরা।
ধান কাটতে আসা শ্রমিক আবুল মিয়া, মোখছার আলী, হামিদুর রহমান ও মোনায়েম সরকার সহ আরও অনেকে জানান, বোরো ধান কাটা প্রায় শেষের পথে। আবহাওয়া অনুকুল থাকায় সবার ধান কেটে ঘরে আনা সম্ভব হয়েছে। সারাদিন ধান কেটে দিচ্ছি দম নেয়ার ও সময় নেই আমাদের। শ্রমিকের চাহিদা বাড়ায় একটু শ্রমিকের মূল্য বেড়েছে। শতাংশ প্রতি ১শত ২০ টাকা নেয়া হচ্ছে বলে জানান তারা।
কুড়িগ্রামের রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, গতকাল শনিবার (১০ মে) জেলায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিলো ৩৮.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ রবিবার (১১ মে) একই তাপমাত্রা বিরাজমান আছে। আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত একই ভাবে তাপমাত্রা বিরাজমান থাকবে। তবে মঙ্গলবার এর পর থেকে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষিবিদ মোশারফ হোসেন জানান, এবারে বোরোর ফলন অনেক ভালো হয়েছে। বোরো ধান ঘরে উঠানো শুরু হয়েছে। ধান কাটা মাড়াই প্রায় শেষের পথে। এবারে দুর্যোগের কবলে না পড়ায় চাষিরা আনন্দে ধান শুকিয়ে ঘরে উঠাতে পেরেছেন। যেটুকু ধান কাটা বাকী আছে তারাতারি করে ধান ঘরে উঠানোর পরামর্শ দেয়া অব্যহত রয়েছে। এছাড়া বাজারদর ভালো থাকলে চাষিরা অনেক লাভবান হবেন বলে জানান তিনি।