
শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে কম মুনাফায় ওষুধ বিক্রি করায় ‘সততা ড্রাগ হাউস’ নামের একটি ফার্মেসিকে এক হাজার টাকা জরিমানা ও ছয় ঘণ্টার জন্য বন্ধ রাখার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির বিরুদ্ধে। সোমবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে পৌর শহরের আড়াইআনী বাজার এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে।
ঘটনার পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অনলাইন ও অফলাইনে সমালোচনার ঝড় ওঠে। স্থানীয় সচেতন মহল প্রশ্ন তুলেছেন— কোনো বেসরকারি সমিতির কি জরিমানা আদায় বা দোকান বন্ধ রাখার মতো ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা আছে?
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, ওইদিন নিয়মিতভাবে ওষুধ বিক্রির সময় সততা ড্রাগ হাউস এক ক্রেতাকে পাইকারি দরে কিছু ওষুধ বিক্রি করে। বিষয়টি নালিতাবাড়ী কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির নেতাদের কানে গেলে তারা দোকানে গিয়ে এক হাজার টাকা জরিমানা করেন এবং দোকানটি ছয় ঘণ্টার জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। এসময় কোনো নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত ছিলেন না।
সততা ড্রাগ হাউসের মালিক মিজানুর রহমান বলেন, “একজন নিয়মিত ক্রেতাকে আমি একটু ছাড় দিয়ে ওষুধ বিক্রি করেছিলাম। সেই কারণেই সমিতি আমার দোকান বন্ধ করে দিয়েছে এবং জরিমানা করেছে। অথচ আমিও ওই সমিতির সদস্য।”
বিষয়টি জানতে চাইলে উপজেলা কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির সভাপতি আবু সিনা বলেন, “এ বিষয়ে জেলা কমিটির সঙ্গে কথা বললেই বিস্তারিত জানা যাবে। যা করা হয়েছে, তা সমিতির নিয়ম অনুযায়ী।”
এ বিষয়ে শেরপুরের ঔষধ তত্ত্বাবধায়ক জাহিদুল ইসলাম বলেন, “ওষুধ বিক্রির লাভ বা ছাড় দেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ ব্যবসায়ীর নিজস্ব সিদ্ধান্ত। কোনো বেসরকারি সংগঠনের এ নিয়ে জরিমানা করার বা দোকান বন্ধ রাখার ক্ষমতা নেই। সরকার কোনো কেমিস্ট সমিতিকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেয়নি।”
নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আক্তার ববি বলেন, “সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে, প্রমাণ মিললে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়রা মনে করছেন, এমন ঘটনা শুধু ব্যবসায়ী মহলের প্রতিযোগিতা ব্যাহত করছে না, বরং সাধারণ জনগণেরও ন্যায্য দামে ওষুধ পাওয়ার সুযোগ সীমিত করছে। ফলে নালিতাবাড়ীর ব্যবসায়ী ও নাগরিক সমাজ এখন প্রশ্ন তুলছে— কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতি কি নিজেদের হাতে আইন তুলে নিচ্ছে?