
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নের তাঁতকুড়ায় মৃত আব্দুল আজিজের বিধবা স্ত্রী ও তার এতিম সন্তানদের জমি বেদখল করে মাদ্রাসা ঘর নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মব সৃষ্টির মাধ্যমে গত বছরের ৭ আগস্টে এ জমি দখল করে মাদ্রাসা ঘর নির্মাণের অভিযোগ করেন আব্দুল আজিজের স্ত্রী হামিদা খাতুন ও তার দু’পুত্র মোফাজ্জল ইসলাম এবং তোফাজ্জল ইসলাম রাফাত ।
মাদ্রাসা ঘর নির্মাণ ও জমি দখল প্রসঙ্গে তাঁতকুড়া গ্রামের মৃত আজিম উদ্দিন আকন্দের পুত্র রমজান আলী আকন্দ জানান, আমি সাফকাওলা দলিল মূলে জমি ক্রয় করেছি। আগে দখল নিতে পারি নাই। তাই ৭ আগস্টে ভবন নির্মাণ করে আল্লাহর রাস্তায় কাজ করার জন্য সেখানে মাদ্রাসা নির্মাণ করেছি। তিনি আরও বলেন, আব্দুল আজিজ চাচাই জমি আগে ক্রয় করেছেন। নাবালকের সম্পত্তি তার বাবা বিক্রি করে দিয়েছিলো। আল আমিন সাবালক হওয়ার পর তার নিকট থেকে আমি এ জমি ক্রয় করেছি। এ নিয়ে আমিও মামলা করেছি, তারাও মামলা করেছে। হেরে গেলে দখল ছেড়ে দিবো। মাদ্রাসার ঘরও নিয়ে যাবো।
হামিদা খাতুন জানান, তার স্বামী আব্দুল আজিজ ১৯৯৩সনের ২৩ সেপ্টেম্বর ৬৭৩৯নং দলিল সম্পাদনের মাধ্যমে তৎকালীন সময়ে নাবালক (অপ্রাপ্ত বয়স্ক) আল আমিনের পিতা মন্নাছ আলীর নিকট থেকে সাড়ে ৭শতাংশ জমি ক্রয় করেন। গৌরীপুর-কলতাপাড়া সড়কের তাঁতকুড়া মৌজায় এ ভূমি ১৯৯৩সন থেকেই তার স্বামী ভোগদখল করে আসছিলেন। তিনি মারা যাওয়ার পরে হামিদা খাতুন ও তার দু’সন্তান এ জমি শান্তিপূর্ণভাবে চাষাবাদ করছিলেন। তার স্বামী যখন এ জমি ক্রয় করেন তখন আল আমিনের বয়স ছিলো ৬/৭বছর। সেই সময়ে আল আমিন নোটারী পাবলিক সম্মুখে উপস্থিত হয়ে ১৯৯৩সনের ২১ সেপ্টেম্বর তারিখে ৭৫৩নং এফিডেভিটমূলে পিতাকে এ জমি বিক্রয়ের অনুমতিও প্রদান করেছিলো।
তিনি আরও জানান, তার স্বামীর নিকট বিক্রিত এ জমি থেকে ২০১৫ সনের ৭ মে তারিখে ১৪৯১নং দলিল মূলে আজিম উদ্দিন আকন্দের পুত্র রমজান আলী আকন্দ ৫শতাংশ জমির দলিল করে নেন। মন্নাছ আলীর ওই পুত্র আল আমিন এ জমির হস্তান্তর দলিল করে দেন। এ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন যাবত আমরা দখলে থাকলেও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ায় সরকারবিহীন সময় ৭ আগস্টে অশৃঙ্খল লোকজন নিয়ে মব সৃষ্টি করে এ জমি দখলে নেয় রমজান আলী আকন্দ।
গৌরীপুর সাবরেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম হাচিবেশ শাহিদ মুনশী জানান, নাবালকের বৈধ অভিভাবক পিতা। সন্তানের সম্পত্তি তিনি বিক্রি করতে পারেন। ইউনিয়ন ভূমি অফিস ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৫সনের ৭ মে তারিখে ১৪৯১নং দলিল মূলে আজিম উদ্দিন আকন্দের পুত্র রমজান আলী আকন্দ ৫শতাংশ জমির জমাখারিজ করে নেন। এ বিষয়ে অভিযোগ পাওয়ায় এ জমাখারিজ বাতিল করা হয়েছে। একই সাথে আব্দুল আজিজের স্ত্রী হামিদা খাতুন ও তার দু’পুত্র মোফাজ্জল ইসলাম এবং তোফাজ্জল ইসলাম রাফাতের অংশ অনুযায়ী সাড়ে ৭শতাংশ ভূমির জমাখারিজ করে দেয়া হয়েছে।
গৌরীপুর সহকারী জজ আদালতের আইনজীবী এডভোকেট সাইফুল ইসলাম জানান, রেজিস্ট্রেশন আইন ১৯০৮ এর ৩৫ধারা অনুযায়ী নাবালকের দলিল সম্পাদন করতে পারে না। তাই নাবালকের সম্পত্তি হস্তান্তর আইনগত অবৈধ। নাবালকের স্বাভাবিক অভিভাবক হলো তার পিতা। তিনি তার নাবালক সন্তানের বৈধ অভিভাবক হিসাবে জমি হন্তান্তর করতে পারেন। এক্ষেত্রে অনুমতির প্রয়োজন নেই।
অপরদিকে হামিদা খাতুন ও তার দু’পুত্র মোফাজ্জল ইসলাম এবং তোফাজ্জল ইসলাম রাফাত বাদী হয়ে ২০১৫ সনের ৭ মে তারিখে ১৪৯১নং দলিল আইনগতভাবে অবৈধ ঘোষণার দাবিতে গৌরীপুর সরকারী জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন। এছাড়াও একই আদালতে জমির নিরাপত্তার জন্য অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে তারা মামলা করেছেন।