
রাঙামাটি প্রতিনিধি: ফুল ভাসিয়ে আজ শুরু হচ্ছে বর্ষবরণ উৎসবের মূল আয়োজন। রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদসহ বিভিন্ন নদী ও পাহাড়ি ছড়ায় ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে আজ রবিবার রাঙ্গামাটিতে শুরু হচ্ছে বিভিন্ন নৃ-গোষ্ঠীর বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণ উৎসবের মূল আয়োজন।
পুরনো বছরকে বিদায় এবং নতুন বছরকে বরণের এই উৎসব পাহাড়ি জনগোষ্ঠী মানুষদের কাছে প্রাণের উৎসব হিসেবেই পরিচিত। উৎসবের রঙে মেতে উঠবে পাহাড়ের মানুষ। এদিকে, উৎসবের অংশ হিসেবে গতকাল শনিবার অনুষ্ঠিত হলো ঐতিহ্যবাহী বলী খেলা।
পাহাড়ে বসবাসরত বিভিন্ন ক্ষদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সবচেয়ে বড় সামাজিক উৎসব বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু, বিষু, চাংক্রান, চাংলান, পাতা, বিহু। বিভিন্ন জনগোষ্ঠী তাদের স্ব স্ব নামে, নিজেদের সংস্কৃতি ও বিশ্বাস থেকে এসব উৎসব উদযাপন করে থাকে। চৈত্র মাসের শেষ দুদিন এবং বৈশাখ মাসের প্রথম দিন এই তিন দিন মূল উৎসব উদযাপন হলেও পক্ষকালব্যাপী উৎসবের রেশ থাকে পাহাড়ে।
মূল উৎসবের প্রথম দিন (আজ) পানিতে ফুল ভাসানোর পর বাসায় গিয়ে ফুল ও নিমপাতা দিয়ে ঘর সাজান পাহাড়ের তরুণ-তরুণীরা। তারা বৃদ্ধ ঠাকুরদা-ঠাকুরমাকে স্নান করিয়ে তাদের কাছ থেকে আশীর্বাদ নেন।
চৈত্র মাসের শেষ দিন অর্থাৎ ১৩ এপ্রিল উদযাপন করা হয় মূল বিজু। এদিন সকালে বুদ্ধমূর্তি স্নান করিয়ে পূজা করেন চাকমারা। চাকমাদের বিজুর প্রথম দিনের নাম ফুল বিজু। দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ চৈত্রের শেষ দিন থেকে শুরু হয় খাওয়া-দাওয়া, অতিথি আপ্যায়নের মূল পর্ব। এদিন, ঘরে ঘরে চলে ঐতিহ্যবাহী পাঁজন আতিথেয়তা।
বিজু আর পাঁজন এই দুটি শব্দ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বিভিন্ন ধরনের সবজি যেমন-আলু, পেঁপে, গাজর, বরবটি, কচু, লাউ, কাঁচকলা, কচি কাঁঠাল, সজনে ডাটা, বন থেকে সংগ্রহ করা নানা প্রকারের সবজি কেটে ধুয়ে শুঁটকি বা চিংড়ি মাছ দিয়ে পাঁজন তোন বা তরকারি রান্না করেন চাকমা নারীরা। ১১টি থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৪১টি পদ দিয়ে রান্না করা হয় পাঁজন। এই পাঁজন খেলে শারীরিকভাবে সুস্থ ও রোগ থেকে মুক্ত থাকা যায় বলে বিশ্বাস করেন পাহাড়ের অধিবাসীরা। তাই বছর শেষে নতুন বছরে সুস্থ থাকার প্রত্যয়ে পাঁজন খাওয়া হয়। বিজুর দিনে সাতটি বাসায় পাঁজন খাওয়া শুভ বলে বিশ্বাস করেন চাকমারা।
নতুন বছর বিহারে গিয়ে প্রার্থনা করেন চাকমারা। এদিন ঐতিহ্যবাহী খাবার যেমন থাকে, তেমনি থাকে বিভিন্ন ধরনের পিঠাও। বিন্নি চালের বড়া পিঠা এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য।
১২ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত বৈসাবি’র মূল আনুষ্ঠানিকতা হলেও পাহাড়ে এই উৎসব আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু হয় এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকে।