
ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি : এক সপ্তাহের টানা বৃষ্টির পর রৌদ্রোজ্জ্বল আকাশের দেখা মিলেছে। রোদ দেখে হাসি ফুটেছে কৃষক-কৃষাণীদের মুখে। সকাল থেকেই ধান, খড় আর ভুট্টা শুকানোর মেলা বসেছে সড়কে।
রবিবার দুপুরে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী- সোনাহাট স্থলবন্দর সড়কে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে। সড়কের বিভিন্ন অংশে দল বেঁধে ধান, খড় আর ভুট্টা শুকাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক-কৃষাণীরা।
কৃষকদের ভাষ্য, গত সাত দিন থেকে টানা বৃষ্টি আর রোদ না থাকায় তাদের মাড়ানো ধান, ভুট্টা আর খড় পঁচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল। আজ রোদ ওঠায় অনেকটা বাধ্য হয়েই সড়কে ধান শুকাতে এসেছেন তারা।
উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নের গছিডাঙা গ্রামের এরশাদ আলী নামের এক কৃষক জানান, পানিতে তলিয়ে যাওয়ার ভয়ে গত তিন দিন আগে দুই বিঘা জমির ধান কেটেছি। কিন্তু বৃষ্টির কারণে শুকাতে পারিনি। তাই আজ বাধ্য হয়েই রাস্তায় এসেছি ধান শুকাতে।
একই গ্রামের গৃহ বধূ মরিয়ম জানালেন আগাম জাতের বোরো ধান কেটে ছিলেন সাত দিন আগে। সব ধান মণ প্রতি ১০৫০ টাকা দরে অটো মিল মালিকের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন। কিন্তু খড় গুলো পঁচে কালো হয়ে গেছে। রাস্তায় খড় শুকাতে এসেছেন যাতে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
বঙ্গ সোনাহাট ইউনিয়নের বাসিন্দা হামিদুলের ভাষ্য, দেড় বিঘা জমির ভুট্টা তুলার পর থেকেই টানা বৃষ্টি। ভুট্টা গুলো থেকে পঁচা গন্ধ বের হচ্ছে। আজ রোদ ওঠায় পিচ রাস্তায় তা শুকাতে দিয়েছি। বিক্রি করলে যাতে ভালো দাম পাওয়া যায়।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, উপজেলার ১০ টি ইউনিয়নে চলতি মৌসুমে ভুট্টা চাষ হয়েছে ১ হাজার ৭০ হেক্টর ও বোরো ধান চাষ হয়েছে ১৬ হাজার ৪৮৫ হেক্টর জমিতে। এখন পর্যন্ত ভুট্টা ৭৩৫ হেক্টর ( ৮০ শতাংশ) ও বোরো ধান ২৪৭২ হেক্টর ( ১৫ শতাংশ) কাটা হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আব্দুল জব্বার জানান, টানা বৃষ্টিতে রোদ না থাকায় কৃষকরা কিছুরা অসুবিধায় ছিলেন। এখন আবহওয়া উন্নতির পথে। তাই কৃষকদের পাকা ধান দ্রুত কাটা শেষ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।