Online Desk
১২ এপ্রিল ২০২৬, ৫:৪৫ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

নদীতে ফুল ভাসিয়ে রাঙ্গামাটিতে শুরু হয়েছে বৈসাবি উৎসব

নদীতে ফুল ভাসিয়ে রাঙ্গামাটিতে শুরু হয়েছে বৈসাবি উৎসব

রাঙামাটি প্রতিনিধি: ফুল ভাসিয়ে আজ শুরু হচ্ছে বর্ষবরণ উৎসবের মূল আয়োজন। রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদসহ বিভিন্ন নদী ও পাহাড়ি ছড়ায় ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে আজ রবিবার রাঙ্গামাটিতে শুরু হচ্ছে বিভিন্ন নৃ-গোষ্ঠীর বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণ উৎসবের মূল আয়োজন।

পুরনো বছরকে বিদায় এবং নতুন বছরকে বরণের এই উৎসব পাহাড়ি জনগোষ্ঠী মানুষদের কাছে প্রাণের উৎসব হিসেবেই পরিচিত। উৎসবের রঙে মেতে উঠবে পাহাড়ের মানুষ। এদিকে, উৎসবের অংশ হিসেবে গতকাল শনিবার অনুষ্ঠিত হলো ঐতিহ্যবাহী বলী খেলা।

পাহাড়ে বসবাসরত বিভিন্ন ক্ষদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সবচেয়ে বড় সামাজিক উৎসব বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু, বিষু, চাংক্রান, চাংলান, পাতা, বিহু। বিভিন্ন জনগোষ্ঠী তাদের স্ব স্ব নামে, নিজেদের সংস্কৃতি ও বিশ্বাস থেকে এসব উৎসব উদযাপন করে থাকে। চৈত্র মাসের শেষ দুদিন এবং বৈশাখ মাসের প্রথম দিন এই তিন দিন মূল উৎসব উদযাপন হলেও পক্ষকালব্যাপী উৎসবের রেশ থাকে পাহাড়ে।

মূল উৎসবের প্রথম দিন (আজ) পানিতে ফুল ভাসানোর পর বাসায় গিয়ে ফুল ও নিমপাতা দিয়ে ঘর সাজান পাহাড়ের তরুণ-তরুণীরা। তারা বৃদ্ধ ঠাকুরদা-ঠাকুরমাকে স্নান করিয়ে তাদের কাছ থেকে আশীর্বাদ নেন।

চৈত্র মাসের শেষ দিন অর্থাৎ ১৩ এপ্রিল উদযাপন করা হয় মূল বিজু। এদিন সকালে বুদ্ধমূর্তি স্নান করিয়ে পূজা করেন চাকমারা। চাকমাদের বিজুর প্রথম দিনের নাম ফুল বিজু। দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ চৈত্রের শেষ দিন থেকে শুরু হয় খাওয়া-দাওয়া, অতিথি আপ্যায়নের মূল পর্ব। এদিন, ঘরে ঘরে চলে ঐতিহ্যবাহী পাঁজন আতিথেয়তা।

বিজু আর পাঁজন এই দুটি শব্দ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বিভিন্ন ধরনের সবজি যেমন-আলু, পেঁপে, গাজর, বরবটি, কচু, লাউ, কাঁচকলা, কচি কাঁঠাল, সজনে ডাটা, বন থেকে সংগ্রহ করা নানা প্রকারের সবজি কেটে ধুয়ে শুঁটকি বা চিংড়ি মাছ দিয়ে পাঁজন তোন বা তরকারি রান্না করেন চাকমা নারীরা। ১১টি থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৪১টি পদ দিয়ে রান্না করা হয় পাঁজন। এই পাঁজন খেলে শারীরিকভাবে সুস্থ ও রোগ থেকে মুক্ত থাকা যায় বলে বিশ্বাস করেন পাহাড়ের অধিবাসীরা। তাই বছর শেষে নতুন বছরে সুস্থ থাকার প্রত্যয়ে পাঁজন খাওয়া হয়। বিজুর দিনে সাতটি বাসায় পাঁজন খাওয়া শুভ বলে বিশ্বাস করেন চাকমারা।

নতুন বছর বিহারে গিয়ে প্রার্থনা করেন চাকমারা। এদিন ঐতিহ্যবাহী খাবার যেমন থাকে, তেমনি থাকে বিভিন্ন ধরনের পিঠাও। বিন্নি চালের বড়া পিঠা এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য।

১২ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত বৈসাবি’র মূল আনুষ্ঠানিকতা হলেও পাহাড়ে এই উৎসব আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু হয় এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আশুলিয়ায় হামলা-ভাংচুরের ঘটনায় গ্রেফতারের দাবীতে মানববন্ধন

মাইনীমুখ মডেল হাই স্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় ও নবীনদের বরণ অনুষ্ঠিত

বাউফলে হাম প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সভা

বাঁশখালী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

ধুনটে শিক্ষার মান উন্নয়নে অভিভাবক সমাবেশ

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বাঁশখালী আইনজীবী সমিতির সভাপতি নির্বাচিত মোহাম্মদ নাছের

মোরেলগঞ্জের প্রতিবন্ধী শিশু অদম্য মাইশা বাঁকা হাতেই বৃত্তি পরীক্ষা দিচ্ছে

বাগেরহাটে ২০ এপ্রিল থেকে হাম-রুবেলা টিকাদান শুরু

কাহালুর বিবিরপুকুর আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সততা স্টোরের উদ্বোধন

উলিপুরে বিদায় ও বরণ উপলক্ষে আলোচনা ও দোয়া অনুষ্ঠিত

১০

আড়াইহাজারে শিক্ষকের বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি

১১

নামেই ‘মডেল’, বাস্তবে জরাজীর্ণ: বকশীগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেহাল দশা

১২

আউশ আবাদে উৎসাহিত করতে বকশীগঞ্জে ১,২৫০ কৃষক পেলেন সরকারি প্রণোদনা

১৩

পার্বত্য মন্ত্রী ও সাংসদের মৈত্রী পানি বর্ষণ মধ্য দিয়ে জলকেলীর শুভসূচনা

১৪

মোরেলগঞ্জ-শরণখোলায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অতিষ্ঠ এসএসসি পরীক্ষার্থীরা: জনজীবনে চরম ভোগান্তি

১৫

দেশের ৫৩ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করেন

১৬

ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে বলল চীন

১৭

আ. লীগ আমলে বিসিএস ক্যাডার নিয়োগে দলীয়করণ, তদন্ত করে ব্যবস্থা

১৮

পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার: পানিসম্পদ মন্ত্রী

১৯

বকশীগঞ্জে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটে বৃদ্ধের ঘর ভস্মীভূত, নিঃস্ব পরিবার

২০