
ফুটফুটে হাস্যউজ্জ্বল শিশু আদিবার বয়স (দেড় বছর)। শিশু আদিবা জানেনা জন্ম থেকেই মরণব্যাধি অসুখ তার শরীরে বাঁসা বেধেছে। শিশুটি জন্মের পর থেকেই চিকিৎসা করে আসছেন তার পরিবার।
অনেক চিকিৎসা করেও আদিবা ভালো হচ্ছে না। ডাক্তাররা বলেছেন বাচ্চার হার্টে বেশ কয়েকটি ছিদ্র ধরা পড়েছে। দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে অপারেশন করাতে হবে। কিন্তু অপারেশন করার মতো কোনো টাকা নেই অসহায় পরিবারের কাছে। যা সহায় সম্বল ছিল সব খরচ হয়ে গেছে চিকিৎসা করতে। এখন আর চিকিৎসা করতে পারছেন না। এমন অবস্থায় যদি হৃদয়বান ব্যাক্তি এগিয়ে আসতেন তাহলে বাচ্চাটির চিকিৎসা করাতে পারতাম।
কথাগুলো বলছিলেন কুড়িগ্রামের উলিপুর দলদলিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম নাওডাঙ্গা পাতিলাপুর এলাকার আরিফুল ইসলামের স্ত্রী জান্নাতি বেগম। প্রায় দেড় বছর ধরে সন্তানের চিকিৎসা চালাতে গিয়ে নিঃস্ব এ পরিবার। এখন টাকার অভাবে উপযুক্ত চিকিৎসা করাতেও পারছেন না।
সরেজমিন গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাথায় সমস্যা নিয়ে ঢাকায় তাঁতের কাজ করেন আরিফুল ইসলাম। ঠিকভাবে কাজ করতে পারেনা আরিফুল। এতে যা আয় হয় তা দিয়েই স্বামী-স্ত্রী দুজনের সংসার চলছিল। এরইমধ্যে সংসারে নতুন অতিথি আগমনের খবর আসে। আর এই খবর শুনে পরিবারের সবার মাঝে আনন্দ বিরাজ করছিল। সন্তান জন্মের পর নাম রাখেন আদিবা। ইচ্ছা ছিল আদিবাকে সু-শিক্ষায় শিক্ষিত করে মানুষের মত মানুষ বানাবেন। কিন্তু জন্মগ্রহণ করার পর থেকেই একের পর এক অসুস্থতা লেগেই রয়েছে। অনেক চিকিৎসা করার পর যখন আদিবার বয়স বছর পেরিয়ে যায়। হঠাৎ একদিন বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ে আদিবা। ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার পর জানা যায় তার হার্টে ছিদ্র রয়েছে। জন্মের পর পরিবারের সদস্যরা মিলে এখন পর্যন্ত কয়েক লক্ষা টাকা ব্যয় করেছেন চিকিৎসার জন্য। কিন্তু সামধান হচ্ছে না। সবশেষ ঢাকা হার্ড ফাউন্ডেশন হসপিটালের শিশু ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ এম কে আজাদ বলেছেন, শিশুটির হার্ডে কয়েকটি ছিদ্র রয়েছে। যা দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে অপারেশন করতে হবে। অপারেশন করাতে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা লাগবে বলে জানান এ চিকিৎসক। এখন এ অপারেশন করার মতো টাকা আর তাদের কাছে নেই। টাকা হলেই শিশুটির অপারেশন করা সম্ভব হবে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে মা জান্নাতি বেগম বলেন, সবার ঘরেই এরকম সন্তান আছে। নিজের সন্তান অসুস্থ হলে সবাই চিকিৎসা করে ভালো করেন। আমার সামর্থ্য নেই বলে আমি চিকিৎসা করতে পারছিনা। আমার স্বপ্ন ছিলো মেয়ে বড় হয়ে মানুষের মত মানুষ হবে। মনে হয় আমার স্বপ্ন পূরন হবেনা বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। দেশ-বিদেশের ও সমাজের বিত্তবানদের প্রতি অনুরোধ আপনারা এগিয়ে আসুন। আমার মেয়েকে বাঁচান। আমাকে সাহায্য করতে বিকাশ নম্বর ০১৭৯৭৯৪৪৭১০।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদুল হাসান জানান, উপজেলা প্রশাসন সবসময় অসহায় মানুষের পাশেই আছে। আবেদনের প্রেক্ষিতে আদিবা নামের শিশুর চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহযোগিতা করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।