Online Desk
৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫:৩৬ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

বান্দরবানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তিন তলা বিল্ডিং থাকলেও,ছাত্র ছাত্রীদের ক্লাস চলে বেড়া টিনের দু-চালা ঘরে

বান্দরবানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তিন তলা বিল্ডিং থাকলেও,ছাত্র ছাত্রীদের ক্লাস চলে বেড়া টিনের দু-চালা ঘরে

বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি : বান্দরবান জেলা সদর হতে ২৬ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে,রুমা উপজেলার রুমা -চিম্বুক সড়কের গা ঘেষে ম্রো সম্প্রদায়ের প্রায় ৫০-৬০ টি পরিবারের শতাধিক সদস্যের জনসাধারণের বসবাস রুই-ফু পাড়ায়।

ম্রো জনগোষ্ঠীর নিজেদের সামাজিকতা ঐতিহ্য রক্ষার পাশাপাশি এই পাড়ায় বসবাসকারী জনসাধারণের সন্তানদের প্রাথমিক শিক্ষার ভীত গড়ে দিতে,শিক্ষার আলোয় আলোকীত করতে ২০০৯ সালে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতিষ্ঠা করা হয় রুই-ফু পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

প্রথম দিকে টিন ও বেড়া দিয়ে ২ কক্ষে ১ম শ্রেনী হতে ৫ম শ্রেনী পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীদের বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলো।

সময়ের পরিক্রমায় মে ২০২৩ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়টি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডি বান্দরবান এর বাস্থবায়নে ১ কোটি ২১ লাখ চুরানব্বই হাজার টাকায় ঠিকাদরী প্রতিষ্ঠান, রতন সেন তঞ্চঙ্গ্যার নিয়োজিত ঠিকাদার মোঃ মন্নান তিন তলা বিশিষ্ট স্কুলের নির্মান কাজ শুরু করে।
নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মে ২৪ এর মধ্যে স্কুলের নির্মান কাজ শেষ হয়ে বছর পেরিয়ে গেলেও,এখনো স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডি,নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হতে স্কুলটি বুঝে নিয়ে তা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে বুঝিয়ে দিতে পারে নি।

এ বিষয়ে রুই-ফু পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ফারুক প্রতিবেদক কে জানান বিদ্যালয়ের নির্মাণ কাজের বছর পেরিয়ে গেলেও আমরা এখনো টিন,বেড়ার ক্লাস রুমে ১০৮ জন ছাত্রছাত্রী নিয়ে ক্লাস করাচ্ছি।এছাড়াও বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার জন্য বান্দরবান বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবরে ৬ মাস আগে আবেদন জমা দিয়েছি,এখনো কোন উত্তর পাইনি।

এদিকে বিদ্যুৎ বিভাগে স্কুলের সংযোগের আবেদনের বর্তমান অবস্থা জানতে জেলা বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আমির হোসেন মাসুম এর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছ হতে দেয়া কোন আবেদন তার হাতে আশে ন বলে জানান,পরবর্তীতে প্রতিবেদককে মোবাইল ফোনে লাইনে রেখে বিদ্যুৎ বিভাগের স্টাফ মফিজ এর কাছে জানতে চাইলে আবেদনের বিষয়টি নিশ্চিত হয়।

ধারনা করা হচ্ছে টাকা না দেয়ায় মফিজ আবেদনের কপি নির্বাহী প্রকৌশলীর টেবিলে জমা দেয়নি।বিষয়টি জানার পর দ্রুত সময়ে বিষয়টি সমাধানের জন্য প্রতিবেদককে আশ্বাস প্রদান করেন বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আমির হোসেন মাসুম।

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রতন সেন তঞ্চঙ্গ্যা এর নিয়োজিত ঠিকাদার মোঃ মান্নান এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,আমি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে স্কুলের সকল কাজ সম্পন্ন করেছি,এছাড়াও রুমা উপজেলা এলজিইডি ও স্কুল কর্তৃপক্ষ আমাকে স্কুলের কাজের যে সকল সমস্যার কথা বলেছেন তা ঠিক সময়ে করে দিয়েছি,কাজ শেষ হলেও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, এলজিইডি থেকে আমার কাছ হতে কাজটি বুঝে না নেয়ায় স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে তা এখনো হস্তান্তর করা হয়নি।সত্যতা নিশ্চিত করে রুমা উপজেলা এলজিইডির দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বিদ্যুৎ সেন প্রতিবেদককে জানান স্কুলের কয়েকটি সমস্যা সমাধান করতে ঠিকাদার কে বলাট পর তা সমাধান হয়েছে।বিদ্যালয়ের বৌদ্যুতিক সংযোগ দেয়া হয়নি,এ বিষয়ে জেলা এলজিইডি বিস্তারিত বলতে পারবে।

নির্মাণের বছর পেরিয়ে গেলেও স্কুল কর্তৃপক্ষকে বিদ্যালয় বুঝিয়ে না দেয়ার কারন জানতে জেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডি বান্দরবান নির্বাহী প্রকৌশলী প্রতিপদ দেওয়ান এর সাথে অফিসে যোগাযোগ করা হলে তিনি উপজেলা এলজিইডির দায়িত্বশীলদের সাথে যোগাযোগ করে বলেন, নির্মাণ কাজ শেষ হলে দ্রত সময়ের মধ্যে এটা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ হতে বুঝে নিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে।স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের জন্য বিভাগীয় একটি অনুমোদনের প্রয়োজন হয়।তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ হতে কাজ বুঝে নিতে কোন বাধা নেই।কারন বিদ্যুৎ সংযোগের বিষয়টির সাথে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কোন সম্পর্ক নেই।

দীর্ঘদিনধরে স্কুলের পাকা বিল্ডিং নির্মাণ শেষ হলেও বৈদ্যুতিক সংযোগ না দেয়ার কারনে অতি কস্টে ১ম থেকে ৫ম শ্রেনীর ছাত্রছাত্রীরা প্রতিদিনের ক্লাস করছে টিনসেড়ের বেড়ার স্কুলে,জায়গার সংকুলান না হওয়ার কারনে কিছু ক্লাস দিনের আলোয় করা হচ্ছে নতুন বিল্ডিং এ।স্থানীয়রা জানন বান্দরবান হতে ২৬ কিলোমিটার পর হতে এই এলাকায় এখনো বিদ্যুৎ এর সংযোগ আসেনি,তাই নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপন করা না হলে এখানে বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়া সম্ভব না।

বিদ্যালয় ও এলাকার জন্য নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপনের বিষয়ে জেলা বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আমির হোসেন মাসুম প্রতিবেদককে জানান আমাদের কাছে বর্তমানে নতুন ট্রান্সফরমার নেই,এটা প্রকল্প অনুমোদন করলে নতুন ট্রান্সফরমার পাওয়া যাবে, তবে এ জন্য কতদিন লাগবে সেটা নিশ্চিত ভাবে বলা যাচ্ছে না।

স্থানীয় বসবাসকারী ম্রো সম্প্রদায়ের জনসাধারণের দাবী পিছিয়ে পড়া ম্রো জনগোষ্ঠীর শিক্ষার প্রসারে এই এলাকায় দ্রুত সময়ে স্কুলে বিদ্যুৎ সংযোগ সহ সুপেয় পানির সমস্যা সমাধানে, পার্বত্য মন্ত্রী দিপেন দেওয়ান,প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এবং সাংসদ সাচিং প্রু জেরির দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

দ্রুত সময়ের মধ্যে স্কুলের নতুন ভবনে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের সুযোগ সৃষ্টি হলে, পিছিয়ে পড়া ম্রো জনগোষ্ঠীর শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এই স্কুলটি।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আশুলিয়ায় হামলা-ভাংচুরের ঘটনায় গ্রেফতারের দাবীতে মানববন্ধন

মাইনীমুখ মডেল হাই স্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় ও নবীনদের বরণ অনুষ্ঠিত

বাউফলে হাম প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সভা

বাঁশখালী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

ধুনটে শিক্ষার মান উন্নয়নে অভিভাবক সমাবেশ

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বাঁশখালী আইনজীবী সমিতির সভাপতি নির্বাচিত মোহাম্মদ নাছের

মোরেলগঞ্জের প্রতিবন্ধী শিশু অদম্য মাইশা বাঁকা হাতেই বৃত্তি পরীক্ষা দিচ্ছে

বাগেরহাটে ২০ এপ্রিল থেকে হাম-রুবেলা টিকাদান শুরু

কাহালুর বিবিরপুকুর আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সততা স্টোরের উদ্বোধন

উলিপুরে বিদায় ও বরণ উপলক্ষে আলোচনা ও দোয়া অনুষ্ঠিত

১০

আড়াইহাজারে শিক্ষকের বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি

১১

নামেই ‘মডেল’, বাস্তবে জরাজীর্ণ: বকশীগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেহাল দশা

১২

আউশ আবাদে উৎসাহিত করতে বকশীগঞ্জে ১,২৫০ কৃষক পেলেন সরকারি প্রণোদনা

১৩

পার্বত্য মন্ত্রী ও সাংসদের মৈত্রী পানি বর্ষণ মধ্য দিয়ে জলকেলীর শুভসূচনা

১৪

মোরেলগঞ্জ-শরণখোলায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অতিষ্ঠ এসএসসি পরীক্ষার্থীরা: জনজীবনে চরম ভোগান্তি

১৫

দেশের ৫৩ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করেন

১৬

ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে বলল চীন

১৭

আ. লীগ আমলে বিসিএস ক্যাডার নিয়োগে দলীয়করণ, তদন্ত করে ব্যবস্থা

১৮

পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার: পানিসম্পদ মন্ত্রী

১৯

বকশীগঞ্জে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটে বৃদ্ধের ঘর ভস্মীভূত, নিঃস্ব পরিবার

২০