
হাম রোগ (Measles) একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা প্রধানত শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।
তবে টিকা না নেওয়া যেকোনো বয়সের মানুষ আক্রান্ত হতে পারে।
কারণ কি?
• Measles virus দ্বারা হয়ে থাকে।
• বাতাসের মাধ্যমে (কাশি/হাঁচি) খুব সহজে ভাইরাস মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে।
• আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসলে সংক্রমণ ঝুঁকি ~৯০%।
হাম রোগের লক্ষণ কি?
প্রাথমিক লক্ষণ
• জ্বর (উচ্চ তাপমাত্রা)।
• কাশি।
• নাক দিয়ে পানি পড়া।
• চোখ লাল হওয়া।
বিশেষ লক্ষণ
• মুখের ভিতরে সাদা দাগ হতে পারে।
• ৩–৫ দিন পর শরীরে লালচে ফুসকুড়ি (rash) শুরু হয় (মুখ, শরীর ও পা)
হাম রোগের জটিলতা কি?
হাম অনেক সময় মারাত্মক হতে পারে:
• নিউমোনিয়া।
• ডায়রিয়া।
• কান ইনফেকশন।
• এনসেফালাইটিস (মস্তিষ্কে সংক্রমণ)।
• Subacute sclerosing panencephalitis (SSPE) – বিরল কিন্তু মারাত্মক।
হাম রোগ নির্ণয় পদ্ধতি কি?
• ক্লিনিক্যাল লক্ষণ দেখেই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রোগ নির্ণয় সম্ভব।
• রক্ত পরীক্ষায় Measles IgM antibody।
• Viral PCR টেস্ট।
হাম রোগের চিকিৎসা পদ্ধতি কি?
হাম রোগের নির্দিষ্ট কোন এন্টিভাইরাস ওষুধ নেই। শুধু লক্ষণ গুলোর চিকিৎসা করা হয়ে থাকে যেমন :
• জ্বর কমাতে প্যারাসিটামল।
• পর্যাপ্ত পানি ও পুষ্টিকর খাবার।
• চোখ ও নাক পরিষ্কার রাখা।
• গুরুতর ক্ষেত্রে হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে।
• শিশুদের জন্য সুষম খাবার ও ভিটামিন এ দিতে হবে।
হাম রোগের প্রতিরোধ কি সম্ভব?
সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধের উপায় হচ্ছে:
MMR vaccine (Measles, Mumps, Rubella)
কখন হাম রোগ হলে ডাক্তার দেখাবেন?
• শ্বাসকষ্ট ।
• খিঁচুনি।
• অচেতনতা।
• দীর্ঘদিন জ্বর না কমা।
• শিশু খুব দুর্বল হয়ে গেলে।
ভ্যাকসিনের ধরন কি?
সবচেয়ে প্রচলিত হলো: MMR vaccine
একসাথে ৩টি রোগ প্রতিরোধ করে:
• হাম (Measles)
• মাম্পস (Mumps)
• রুবেলা (Rubella)
কিছু ক্ষেত্রে:
MR vaccine (Measles + Rubella) দেয়া হয়ে থাকে।
ডোজ ও সময়সূচি কি?
বাংলাদেশসহ অনেক দেশে:
• ১ম ডোজ: ৯ মাস বয়সে
• ২য় ডোজ: ১৫–১৮ মাস বা ২য় বছরে
WHO অনুযায়ী ২ ডোজ নিলে সুরক্ষা ~৯৭%।
ভ্যাকসিনের ধরন কি?
• Live attenuated vaccine (দুর্বল করা জীবিত ভাইরাস) ।
• শরীরে প্রবেশ করে ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে।
হাম রোগ প্রতিরোধে টিকার কার্যকারিতা কেমন?
• ১ ডোজ: ~৯৩% সুরক্ষা।
• ২ ডোজ: ~৯৭% সুরক্ষা।
• দীর্ঘমেয়াদি ইমিউনিটি তৈরি করে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কি?
• হালকা জ্বর ।
• ইনজেকশন স্থানে ব্যথা ।
• হালকা র্যাশ ।
• অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশন (খুবই কম)।
টিকা কাদের দেওয়া উচিত নয়?
• গর্ভবতী নারী।
• গুরুতর ইমিউন কমপ্রোমাইজড রোগী।
• পূর্বে ভ্যাকসিনে মারাত্মক অ্যালার্জি থাকলে।
টিকার গুরুত্ব কি?
• অপুষ্ট শিশুদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।
• হার্ড ইমিউনিটি তৈরি করে।
• মহামারী প্রতিরোধ করে।
• শিশু মৃত্যুহার কমায়।
লেখক
ডা: রোকসানা হোসেন অথৈ
রেসিডেন্ট মেডিকেল অফিসার
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট।