
চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে চট্টগ্রাম-১৪ আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করায় চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য এডভোকেট মোহাম্মদ মিজানুল হক চৌধুরী ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শফিকুল ইসলাম রাহীকে দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাত ৮টার সময় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ এনে তাদের বহিষ্কার করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় নীতি, আদর্শ ও শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকান্ডে জড়িত থাকার জন্য বিএনপি’র নিম্নবর্ণিত নেতৃবৃন্দকে দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
বহিষ্কার প্রসঙ্গে শফিকুল ইসলাম রাহী সিআইপি বলেন, “বিগত ১৭-১৮ বছর ধরে আমি জানবাজি রেখে দলের জন্য কাজ করেছি। অসংখ্য মামলার শিকার হয়েছি, কারাবরণ করেছি, মিছিল-মিটিংয়ে সক্রিয় ছিলাম। দলের নির্যাতিত ও তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছি। যেসব নেতাকর্মী মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের নিয়মিত খোঁজখবর নিয়েছি। দলের ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও কেন্দ্রীয়—সব পর্যায়ের কর্মসূচিতে নিষ্ঠার সঙ্গে অংশগ্রহণ করেছি। শেখ হাসিনার শাসনামলের কঠিন সময়ে হরতাল-অবরোধের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কর্মসূচিতেও আমি সামনে থেকে দায়িত্ব পালন করেছি।
এত ত্যাগ ও দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার পরও উত্তর সাতকানিয়া সাংগঠনিক উপজেলা বিএনপির কমিটিতে আমাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। জেলা কমিটিতে আমার কর্মীদের স্থান দেওয়া হলেও আমাকে রাখা হয়নি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন চেয়েও আমি তা লাভ করতে ব্যর্থ হই।
এই দীর্ঘ বঞ্চনার পর দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত বহিষ্কারাদেশের চিঠি পাওয়া আমার জন্য বেদনাদায়ক নয়; বরং এটি আমার কাছে এক ধরনের গর্বের বিষয়। কারণ, অন্তত এটুকু স্বীকৃতি পেলাম যে আমি সত্যিই দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতি করেছি। এখন আর কেউ বলতে পারবে না-আমি কখনো বিএনপি করিনি। আমি যদি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত না থাকতাম, তাহলে দলের হাইকমান্ড আমাকে বহিষ্কারই বা করল কেন?
দুঃখজনক বিষয় হলো, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার যে কারণে আমাকে বহিষ্কার করা হলো, সে বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে কোনো পর্যায়ে বসে আলোচনা করার প্রয়োজনীয়তাও অনুভব করা হয়নি। বিতর্কিত আওয়ামী-ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেওয়ার আগে বা পরেও আমার সঙ্গে কোনো কথা বলা হয়নি। সহজ পথ হিসেবে কেবল বহিষ্কারের চিঠি প্রদানই যথেষ্ট মনে করা হয়েছে। প্রশ্ন থেকে যায়-এতে দল কতটা লাভবান হচ্ছে?
দলের অভ্যন্তরে যদি গণতান্ত্রিক চর্চা না থাকে, তাহলে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে কীভাবে? গঠনতন্ত্র ও সাংগঠনিক নিয়মনীতি মেনে দল পরিচালিত হলে বহিষ্কারের মতো সিদ্ধান্ত সহজে আসত না।
আওয়ামী লীগ স্বৈরাচারী মনোভাব ও ভিন্নমত দমনের রাজনীতির কারণেই আজ এই পরিণতির মুখোমুখি হয়েছে। ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের এভাবে দূরে সরিয়ে দিলে একদিন আমাদেরও একই ধরনের পরিণতির শিকার হতে পারে।”
এডভোকেট মোহাম্মদ মিজানুল হক চৌধুরী বলেন, “২০০৮ সালে চারদলীয় জোটের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে চট্টগ্রাম-১৪ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দিতা করেছি। বর্তমানে বিএনপির কোন কমিটিতে না থাকলেও একজন সমর্থক হিসেবে আছি। দল থেকে যাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, তাকে সমর্থন করতে পারছি না বিধায় নিজে প্রার্থী হয়েছি। দল তাদের নীতিমালা অনুযায়ী যা ভালো মনে করে তাই করেছে”।