
চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি : চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী ৩১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের এক্স-রে যন্ত্রটি অর্ধযুগ ধরে তালাবদ্ধ কক্ষে বিকল হয়ে পড়ে আছে। পুরনোটি মেরামত কিংবা নতুন যন্ত্র স্থাপন করে পুনরায় এক্স-রে সেবা চালু করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ নির্বিকার।
এদিকে এক্স-রে যন্ত্রটি অর্ধযুগ ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে থাকায় দোহাজারী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের এক্স-রে করাতে হচ্ছে বাইরের বেসরকারি রোগ নির্ণয় কেন্দ্র থেকে। এক্স-রে যন্ত্র চালু না থাকায় বিপাকে পড়েছেন দোহাজারী পৌরসভাসহ পার্শ্ববর্তী সাতবাড়িয়া, বৈলতলী, হাশিমপুর, ধোপাছড়ি ও সাতকানিয়া উপজেলার কালিয়াইশ, খাগরিয়া, নলুয়া, ধর্মপুর, পুরানগড় ইউনিয়নের গরিব অসহায় রোগিরা।
দোহাজারী হাসপাতালের অবস্থান চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে হওয়ায় বেশির ভাগ সময় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসেন এই হাসপাতালে। জরুরি বিভাগে সেবা নিতে আসা রোগীদের এক্স-রে’র প্রয়োজন হয় বেশি। কিন্তু হাসপাতালের এক্স-রে যন্ত্র নষ্ট থাকায় বাইরের বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে এক্স-রে করাতে হচ্ছে।
জানা যায়, দোহাজারী হাসপাতালের এক্স-রে যন্ত্রটি বিগত ২০১২ সালের ডিসেম্বর মাসে একবার অকেজো হয়ে প্রায় দেড় বছর সেবা প্রদান বন্ধ ছিলো। পরবর্তীতে মেশিনটি মেরামত করে সেবা চালু করলেও রেডিওগ্রাফারের পদ না থাকায় কাউকে পদায়ন করা হয়নি। ওই সময় সপ্তাহে দুই দিন সেবা দিতেন অমল চন্দ্র রাজবংশী নামে একজন রেডিওগ্রাফার।
তিনি চন্দনাইশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশাপাশি দোহাজারী হাসপাতালেও এক্স-রে সেবা দিতেন বলে জানা গেছে। ২০২১ সালের জুন মাসে অমল চন্দ্র রাজবংশী বদলী হওয়ার পর অক্টোবর মাসে এক্স-রে যন্ত্রটি ফের অকেজো হয়ে যায়। এরপর বিগত অর্ধযুগ ধরে দোহাজারী হাসপাতালের এক্স-রে যন্ত্রটির সেবা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ রোগীরা।
এ প্রসঙ্গে হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডাঃ আহমেদ তানজিমুল ইসলাম বলেন, “আমি এই হাসপাতালে যোগদানের পর এক্স-রে যন্ত্রটি চালুর উদ্যোগ নিয়েছিলাম। তবে যন্ত্রটি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় কিছু পার্টস অকেজো হয়ে গেছে। ইতিমধ্যে মেকানিক এনে এক্স-রে মেশিনটা দেখিয়েছি। তারা কিছু পার্টস লাগবে বলে জানিয়েছেন।
পুরাতন মডেলের এনালগ এক্স-রে যন্ত্রটির পার্টস ও ফ্লিম এর দাম বেশি এবং বাজারে অপ্রতুল হওয়ায় এক্স-রে যন্ত্রটি চালুর পদক্ষেপ পিছিয়ে যায়। তাছাড়া এক্স-রে কক্ষটি জরাজীর্ণ হওয়ায় কক্ষটি মেরামত করতে হবে এবং এক্স-রে টেকনিশিয়ান পদায়ন করতে হবে। ইতোমধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মহোদয় মারফত সিভিল সার্জন মহোদয় ও বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক মহোদয়ের কার্যালয়ে আবেদন পাঠানো হয়েছে।”
এবিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রশ্মি চাকমা বলেন, “আমি চন্দনাইশে যোগদানের অনেক আগে থেকেই দোহাজারী হাসপাতালের এনালগ এক্স-রে যন্ত্রটি নষ্ট হয়ে পড়ে আছে।
নতুন এক্স-রে মেশিন পাওয়ার জন্য চাহিদাপত্র যথাযথ কর্তৃপক্ষ বরাবরে লিখিতভাবে দেওয়া হয়েছে। চাহিদাপত্রের অনুলিপি এমপি মহোদয় বরাবরেও দেওয়া হয়েছে। নতুন এক্স-রে যন্ত্র বরাদ্দ পেলে দোহাজারী হাসপাতালে এক্স-রে সেবা চালু করা যাবে।”