
এনআরবিসি ব্যাংক পিএলসি-এর খুলনা জোনের কর্মকর্তাদের নিয়ে ‘টাউন হল মিটিং-২০২৬’ অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (১৬ মে) যশোরের একটি মিলনায়তনে আয়োজিত এই সভায় খুলনা অঞ্চলের সকল শাখা ও উপশাখার কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।
ব্যাংকের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ এবং গ্রাহকসেবার মানোন্নয়নে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনা দেওয়ার লক্ষে এই বিশেষ সভার আয়োজন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ব্যাংকের খুলনা ও বরিশাল জোনের প্রধান কৃষিবিদ মো. আব্দুল হালিম।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনআরবিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. আলী হোসেন প্রধানিয়া। তিনি তাঁর বক্তব্যে ব্যাংকের সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান যে, ব্যাংকের প্রতিটি স্তরে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় ফরেনসিক অডিট পরিচালনা করা হয়েছে। আমানতকারীদের আমানতের সুরক্ষা এবং ব্যাংকের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখা প্রতিটি কর্মীর পেশাগত দায়িত্ব বলে তিনি উল্লেখ করেন। একটি টেকসই আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে সব ধরণের অনিয়ম পরিহার করে নৈতিক ব্যাংকিং চর্চার আহ্বান জানান তিনি।
চেয়ারম্যান আরও উল্লেখ করেন যে, চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংকগুলোর মধ্যে এনআরবিসি ব্যাংক বর্তমানে বিভিন্ন সূচকে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। অপারেটিং ইনকাম ও প্রফিটসহ বিভিন্ন আর্থিক সূচকে ব্যাংকটি নিয়মিত ইতিবাচক অগ্রগতি বজায় রাখছে। তবে আগামীর সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে ঋণ বিতরণের পাশাপাশি আদায় তদারকি জোরদার করা এবং ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন। এছাড়াও তিনি ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের যুগে নতুন ‘ই-লোন’ এবং রেমিট্যান্স সেবাকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও জনপ্রিয় করার নির্দেশ দেন।
সভার বিশেষ অতিথি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মো. তৌহিদুল আলম খান খুলনা অঞ্চলের ব্যবসায়িক সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি কর্মকর্তাদের পরামর্শ দেন যাতে তাঁরা বিনা সুদ ও স্বল্প সুদের আমানত সংগ্রহের দিকে বেশি মনোযোগ দেন। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও রিটেইল আমানতের ভিত্তি শক্তিশালী করার মাধ্যমে ব্যাংকের তহবিল কাঠামো আরও সুসংহত করার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি মুনাফা বৃদ্ধির লক্ষে খেলাপি ঋণ আদায়ে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের কথা পুনরায় মনে করিয়ে দেন তিনি।
পরিশেষে, এনআরবিসি ব্যাংককে দেশের অন্যতম শীর্ষ টেকসই আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষে কার্যকর কৌশল বাস্তবায়নের অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়। কর্মকর্তাদের পেশাদারিত্বের উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে গুণগত অবদান রাখাই হবে এই ব্যাংকের মূল লক্ষ্য। যশোরের এই সম্মেলনে উপস্থিত সকল কর্মকর্তা ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। একটি উন্নত ও স্বচ্ছ ব্যাংকিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটির সফল সমাপ্তি ঘটে।