
শাহ আলম, রাঙামাটি প্রতিনিধি: শেষ মুহূর্তে পাহাড়ে জমে উঠেছে কোরবানি পশুর হাট। জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে ইঞ্জিন বোটসহ গাড়িতে করে আসছে কোরবানির গরু, ছাগল, মহিষসহ বিভিন্ন পশু।
রাঙ্গামাটি জেলা শহর ছাড়াও জেলার কাপ্তাই উপজেলা, লংগদু, মাইনী বাজার, বাঘাইছড়ি, নানিয়ারচর, সাপছড়ি, বরকলসহ বিভিন্ন উপজেলায়ও বসেছে পশুর হাট। জেলা উপজেলার এসব পশুর হাটে ক্রেতাদের ভিড়ও লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
রাঙ্গামাটি শহরের পৌরসভা টার্মিনালে ঘুরে দেখা গেছে গরুর হাটে ছোট সাইজের গরু ৭০ থেকে ৯০ হাজার টাকা, মাঝারি সাইজের গরু ১লক্ষ থেকে ১লক্ষ ২০ হাজার টাকা, বড় সাইজের গরু দেড় লক্ষ থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং সবচেয়ে বড় সাইজের গরু ৩ থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
তবে এবার বাজারে বড় সাইজের গরুর চাহিদা অনেকটাই কম। বাজারে ছোট এবং মাঝারি সাইজের গরুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। আর ছাগল সর্বনিম্ন ১২ হাজার বড় সাইজে দাম ৬০ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
কোরবানির পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁকডাক, দরদাম আর পশু বাছাইয়ের দৃশ্যে পুরো এলাকা জুগে যেন উৎসবমুখর পরিবেশে রুপ নিয়েছে।
চট্টগ্রাম থেকে আসা মোঃ সাইফুল ইসলাম ও জমির উদ্দিন জানান, কোরবানি উপলক্ষে প্রতিবছরের মতো এবছরও আমরা রাঙ্গামাটিতে গরু কিনতে এসেছি। পাহাড়ী এলাকার পশুগুলো খুবই ভালো মানের এবং অনেকটাই প্রাকৃতিক পরিবেশে বেড়ে উঠা।
পাহাড়ি গরু তেমন একটা অসুস্থ হয়না। তাছাড়া এ সকল গরুকে ইনজেকশন দিয়ে মোটাতাজাকরণ করা হয়না। যার ফলে পাহাড়ি গরুর কদর সকলের কাছে বেশি। এবারে কোরবানির পশুর হাটে পশুর দাম অনেকটাই হাতের নাগালে রয়েছে বলে জানান তারা।
রাঙ্গামাটির গরু ব্যবসায়ী রমজান আলী জানান, দেশেরে বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ী গরু অনেক কদর রয়েছে। কাপ্তাই লেকের পানি শুকিয়ে যাওয়ার ফলে এবার পাহাড় থেকে গরু আনতে একটু কষ্ট হলেও গরুর দাম ভালো থাকায় তা উঠে আসবে বলে জানান তিনি।
রাঙ্গামাটি পৌরসভা ট্রাক টার্মিনালে গরুর বাজার ইজারাদার রবিউল হোসেন বাবলু জানান, এবার কোরবানির পশুর হাটে পর্যাপ্ত পরিমাণ পশু রয়েছে। এখানে নিরাপদ ও আনন্দঘন পরিবেশে ক্রেতা-বিক্রেতারা অত্যন্ত নিরাপদে গবাদি পশু ক্রয়-বিক্রয় করছে। এছাড়া এবার এখানে প্রচুর পরিমাণ পাহাড়ি গরু এসেছে এবং দামও হাতের নাগালে রয়েছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সিনিয়র সহকারী পরিচালক লেলিন দে জানান, জেলায় এবার কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে রয়েছে ৪৪ হাজার ৮৮২টি। বর্তমানে জেলায় প্রস্তুত রয়েছে প্রায় ৫৩ হাজার ২৭২টি পশু। এবার কোরবানির পশুর চাহিদার তুলনায় ৮হাজার ৩৯০টি গবাদিপশু উদ্ধৃত্ত রয়েছে বলে জানান তিনি। রাঙ্গামাটি জেলায় মোট ১৯টি স্থায়ী পশুর হাটে প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব জানান, রাঙ্গামাটি জেলার পশুর হাটগুলোতে ক্রেতারা যাতে সুষ্ঠুভাবে কোরবানির পশু ক্রয় করতে পারে সেজন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। জেলার প্রতিটি হাটে পুলিশের বিশেষ টিম সার্বক্ষনিকভাবে কাজ করছে এবং জাল টাকা সনাক্ত করাসহ ক্রেতাদের সার্বক্ষনিক সহযোগিতা করা হচ্ছে।