
মতিন রহমান, বকশীগঞ্জ (জামালপুর) : আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার বগারচর ইউনিয়নে হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি ভিজিএফের অর্ধেক কার্ডই দলীয় নেতাকর্মীদের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সোহেল রানা পলাশ নিজ কার্যালয়ে এই কার্ডগুলো বিএনপি নেতাদের কাছে হস্তান্তর করেন। সরকারি ত্রাণসামগ্রী এভাবে দলীয়করণের ঘটনায় স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও প্রকৃত কার্ডবঞ্চিত হতদরিদ্রদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে বগারচর ইউনিয়নে এবার হতদরিদ্র, দুস্থ ও অসহায় পরিবারের জন্য মোট ৮ হাজার ৪৮টি ভিজিএফ কার্ড বরাদ্দ দেয় সরকার। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি কার্ডের বিপরীতে সুবিধাভোগী পরিবার ১০ কেজি করে চাল পাবেন। সেই হিসাবে ইউনিয়নে মোট ৮০ হাজার ৪৮০ কেজি চাল বরাদ্দ আসে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে বগারচর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সোহেল রানা পলাশ মোট বরাদ্দের অর্ধেক, অর্থাৎ ৪ হাজার ২৪টি কার্ড সরাসরি ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীদের হাতে তুলে দেন। কার্ড হস্তান্তরের সময় ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন বকশীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি হাসিবুল হক সঞ্জু, বগারচর ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বেলায়েত হোসেন বুলাল এবং সাধারণ সম্পাদক সফিউল আলমসহ দলীয় অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, স্থানীয় প্রশাসনের গঠিত কমিটির মাধ্যমে ইউনিয়নের প্রকৃত দুস্থ ও হতদরিদ্রদের তালিকা তৈরি করে এই কার্ড বিতরণ করার কথা। কিন্তু প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা বা তদারকি কর্মকর্তার (ট্যাগ অফিসার) উপস্থিতি ছাড়াই প্রকাশ্য দিবালোকে এভাবে বিপুল পরিমাণ কার্ড দলীয় নেতাদের হাতে তুলে দেওয়ায় বিতরণের স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইউনিয়নের কয়েকজন বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ভিজিএফের চাল আসে গরিব মানুষের জন্য, কোনো দলের জন্য না। চেয়ারম্যান যদি অর্ধেক কার্ডই দলীয় নেতাদের হাতে দিয়ে দেন, তবে আমাদের মতো সাধারণ গরিব মানুষ চাল পাবে কীভাবে? এই কার্ডগুলো এখন বিএনপি নেতাকর্মীদের আত্মীয়-স্বজন আর পছন্দের মানুষদের মাঝে ভাগাভাগি হবে। প্রকৃত অভাবীরা চাল থেকে বঞ্চিতই থেকে যাবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বগারচর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সোহেল রানা পলাশ বলেন, ‘দলীয় নির্দেশনা মোতাবেক ভিজিএফের বরাদ্দকৃত কার্ড উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি হাসিবুল হক সঞ্জুর হাতে তুলে দিলাম, এতে যাতে আমাদের ইউনিয়ন পরিষদের ওপর কোনো চাপ না আসে।’
তবে দল থেকে এ ধরনের কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম প্রিন্স। তিনি বলেন, হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি ভিজিএফের কার্ড যাতে গরিব অসহায় ব্যক্তিরা পান, সে বিষয়ে দলের নেতাকর্মীদের খেয়াল রাখতে বলা হয়েছে মাত্র।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান সুমন বলেন, নিয়ম অনুযায়ী ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতে প্রকৃত উপকারভোগীদের মাঝে কার্ড ও চাল বিতরণ করার কথা। কোনো রাজনৈতিক দলের হাতে পাইকারি হারে কার্ড হস্তান্তরের কোনো বিধান নেই। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুরাদ হোসেন বলেন, সরকারি ত্রাণ বা ভিজিএফ কার্ড কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের মাধ্যমে বিতরণের আইনি সুযোগ নেই। নিয়মবহির্ভূতভাবে কার্ড হস্তান্তর করা হয়ে থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।